'মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স'

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান।
ওই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্শি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের বড় বড় জায়গায় বিশেষ বিশেষ অবস্থানেও রয়েছেন। এমনকি আমাদের সংসদেও দু-চারজন আছেন। মাদকের গডফাদারদের প্রতিও জিরো টলারেন্স প্রদর্শন ও কঠোর হতে হবে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান। এর আগে সকালে বৃষ্টির মধ্যেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় টিপু মুন্শির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সাংসদ বা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে বর্তমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিচার-প্রক্রিয়ায় অপরাধীর শাস্তি হতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী আইন করা হচ্ছে।
ইয়াবা ঠেকাতে গিয়ে বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাককে অপহরণ করা হয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের পাচারকারীরা নদীতে নৌকায় ইয়াবা রেখে যায়, আর বাংলাদেশের পাচারকারীরা সেগুলো নিয়ে আসে। এ ভাবেই পাচার হয়। সেদিন (১৭ জুন) টহল দিতে গিয়েই রাজ্জাককে তারা অপহরণ করেছিল।
সাংসদ টিপু মুন্শি আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম সবাই মিলে মাদকের কুফলগুলো তরুণদের জানাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দিয়ে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে হবে। মাদকের চাহিদা হ্রাসের দিকেও জোর দিতে হবে।