বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিচ সিলিউশন্স বলছে, আগামী দু–তিন বছরে আফগান অর্থনীতি ১০ শতাংশের মতো সংকুচিত হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশটির মৌলিক সেবা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ফলে শিগগিরই আফগানিস্তানে বড় ধরনের অর্থায়নের চাহিদা তৈরি হবে। তখনই শুরু হবে মূল খেলা। ইতিমধ্যে পশ্চিমা দাতাগোষ্ঠী তালেবানদের স্বীকৃতি না দিয়ে বরং দেশটিতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করেছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগান সরকারকে অনেক সহায়তা করেছে। দেশটির অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই তালেবানদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খুব সহজ-স্বাভাবিক হবে না। ফলে তালেবানদের কাছে বিকল্প একটিই—চীন।

কিন্তু সেই চীনও রাতারাতি আফগানিস্তানে বড় ধরনের বিনিয়োগে যাবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি পাকিস্তানে চীনা অবকাঠামোতে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গেছে। সর্বশেষ এই আগস্ট মাসেও এক হামলা হয়েছে। আফগানিস্তানের আমজনতা দেশে কোনো বিদেশি শক্তির উপস্থিতি মেনে নিতে পারে না, তা তো ঐতিহাসিক সত্য।

ফলে আফগানিস্তানের মাটিতে চীনারা বেশি দিন অবস্থান করার মতো বড় বিনিয়োগে অন্তত এখনই যাবে না বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। এ ছাড়া তালেবানদের মধ্যে অনেক উপগোষ্ঠীও আছে। তাদের মধ্যেও বিভেদ আছে। অনেক অঞ্চলে এই উপগোষ্ঠীগুলো রীতিমতো স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। ফলে চীনারা যে আফগানিস্তানের সর্বত্র নিরাপত্তা বোধ করবে, তেমন সম্ভাবনা কম। আফগানিস্তানের অন্তত ৪ কোটি মানুষের ওপর তালেবানদের সেই অর্থে নিয়ন্ত্রণ নেই।

খনিজ সম্পদ

তবে আফগানিস্তান খনিজ সম্পদে ভরপুর। দেশটিতে বর্তমানে মজুত খনিজ সম্পদের পরিমাণ এরূপ: ৬০ টন কপার, ২২০ কোটি টন লৌহ আকরিক, ১৪ লাখ টন বিরল ভূমিজ খনিজ-লিথিয়ামে ব্যবহৃত হয়, ১৬০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, ১৬ লাখ কোটি ফুট প্রাকৃতিক গ্যাস, ৫০ কোটি ব্যারেল তরল প্রাকৃতিক গ্যাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার টিকিটি স্পর্শ করা যায়নি।

ব্যাপারটা হলো, ২০০৮ সালে চীনা কোম্পানিগুলোর একটি জোট আফগানিস্তানের বৃহত্তম কপার প্রকল্প খননের কাজ নিয়েছিল, কিন্তু আজ ১৩ বছর পরও সেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।

নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে এমনটি ঘটেছে, যদিও সেখানে ১ কোটি ১৮ লাখ টন কপারের মজুত আছে, তার মূল্যমান ১০ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক স্যামুয়েল রামানি সিএনবিসিকে বলেন, আফগানিস্তানের কঠিন ভূপ্রকৃতি, বিদ্যুৎ, সড়ক, রেল যোগাযোগের অপ্রতুলতার কারণে দেশটির খনিজ সম্পদ আহরণ করা অতটা সহজ হয়। তা সত্ত্বেও চীন এর আগে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের চেষ্টা করছে, যেভাবে তারা সুদান ও কঙ্গোতে বিনিয়োগ করেছে।

রামানি আরও বলেন, তবে অতীতে চীন আফগানিস্তানে তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। সিরিয়ার পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, আফগানিস্তানের বেলায়ও তেমনটা ঘটতে পারে বলেই তাঁর অভিমত। অর্থাৎ অধিক গর্জন কিন্তু স্বল্প বর্ষণ।

চীন এমনিতে উইঘুর ও তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট নিয়ে গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে। জিনজিয়াং প্রদেশের সঙ্গে চীনের সীমান্তও আছে। আর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের যে পরিণতি হয়েছে, তা দেখেও চীন কিছুটা নিবৃত্ত হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে চীন শিগগিরই আফগানিস্তানে বড় বিনিয়োগে যাবে না।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন