default-image

করোনাভাইরাসের প্রকোপে নারী উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য আলাদা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য যে ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটাও নারী উদ্যোক্তারা তেমন একটা পাচ্ছেন না। আবেদন করলেও ব্যাংকগুলো সাড়া দিচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হয়, করোনার মধ্যে ব্যবসা খারাপ। উদ্যোক্তাদের লেনদেনও কমে গেছে।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডব্লিউসিসিআই) আয়োজিত ‘নারী উদ্যোক্তাদের ওপর করোনার প্রভাব’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে এসব মতামত দেন উদ্যোক্তারা।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে প্রয়োজনে আগের লেনদেন বিবেচনা করে ঋণ দিতে। তবে উদ্যোক্তাদের ব্যাংকে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিডব্লিউসিসিআইয়ের সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেন, করোনায় বাংলাদেশের বেশির ভাগ নারী উদ্যোক্তা ব্যবসা হারিয়েছেন। এই সময়ে কারও ব্যবসা ছোট হয়েছে। আবার কেউ কেউ নিজস্ব শোরুম ছেড়ে বাসায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। জমানো টাকা ভেঙে খেয়েছেন অনেকে। সম্পদ ও মেশিনপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, এমনও হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেলিমা আহমাদ আরও বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে ব্যবসা বন্ধ আছে, কিন্তু বেতন ও বিল দিতে হচ্ছে, এমন উদ্যোক্তাও আছেন। অনেকের অগ্রিম জমা টাকা থেকে দোকানের ভাড়া কেটে নেওয়া হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তারা বলেন, লকডাউনের কারণে সীমান্ত ও যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সে সময় বিদেশি অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। ফলে অনেক উদ্যোক্তা লাইসেন্স নবায়নে সমস্যায় পড়েছেন। এ ছাড়া প্রণোদনা প্যাকেজে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই।

এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হুসনে আরা শিখা বলেন, প্যাকেজের ৫ শতাংশ নারীদের দিতে বলা হয়েছিল, তবে ঋণ পেয়েছেন ৬ শতাংশ উদ্যোক্তা। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ আছে, যার সুদহার ৩ শতাংশ। এর জন্য কেউ আবেদন করছেন না। নারী উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের মধ্যে দূরত্ব দূর করতে হবে।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন