বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদ্যোক্তা হিসেবে এখন দেশে-বিদেশে বেশ সুপরিচিত হলেও নীলা তাঁর কর্মজীবন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরু করেননি। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় একটি কাজের জন্য আবেদন করেই চাকরি পেয়ে যান। নীলা বলেন, ওই চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় আমি দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম দেখে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘জীবনে আপনি কী হতে চান।’ উত্তরে তাঁর চেয়ার দেখিয়ে বলেছিলাম, ‘ওই চেয়ারে বসতে চাই।’ এমন জবাব শুনে তিনি উঠে গিয়ে নিজে আমার নিয়োগপত্র নিয়ে আসেন। এভাবে পড়া অবস্থাতেই আমার কর্মজীবন শুরু হয়ে যায়—বলেন নীলা। চাকরি শুরুর কয়েক বছরের মধ্যে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও কর্মগুণে নীলা একটি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান। এরপর বিদেশে একটি বৃত্তির আবেদন করেন এবং পেয়েও যান।

এবার নীলার বিদেশযাত্রায় বাদ সাধেন তাঁর বাবা। তিনি নীলাকে বলেন, এই দেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছে এখানকার প্রকৌশলীরা সবাই বিদেশে চলে যান। তুমিও যাবা। বাবা হিসেবে আমি বলব, এ দেশে কাজের ক্ষেত্র না পেলে নিজে সেটা বানিয়ে নাও।

বাবার কথা শুনে নীলা বিদেশে যাওয়ার চিন্তা ভুলে দেশে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তত দিনে দেশে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নীলা দেখলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের আয়োজনে মেয়েদের জন্য বিশেষ কোনো কর্মসূচি নেই। নীলা তাই ২০১২ সালে শুরু করলেন ‘উইমেন ইন ডিজিটাল’। তথ্যপ্রযুক্তিতে মেয়েদের আগ্রহী করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে একুশ শতকের উপযোগী করে গড়ে তোলাই তাঁর প্রতিষ্ঠানের কাজ। গত ৯ বছরে সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার নারীকে প্রশিক্ষিত করেছে নীলার ‘উইমেন ইন ডিজিটাল’। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬৫৪ জন নারী বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বাকিদের বড় অংশই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকা, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, কুড়িগ্রাম ও ময়মনসিংহের পাঁচটি কার্যালয় ছাড়া নেপালেও তাদের কার্যালয় রয়েছে।

উইমেন ইন ডিজিটাল পরিচালিত ডিজিটাল এজেন্সি লুমিনাডেভের নারী কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রাহকদের জন্য ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, গেমিং সফটওয়্যার তৈরির কাজ করেন। বর্তমানে তাঁরা ব্লক চেইন প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে, পাশাপাশি নারীদের প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উইমেন ইন ডিজিটাল। করোনাকালেও ৫০০ নারীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালে দেশে প্রথম নারীদের জন্য উইমেন অ্যাকসেলেটর কর্মসূচি চালু করে। ২০১৭ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ওমেন হ্যাকাথন ফর উইমেন আয়োজন করে। এ ছাড়া ই-কমার্স, সাইবার সিকিউরিটি, অ্যাগ্রোটেক, ডিজিটাল হেলথ নিয়েও কাজ করছেন নীলা। এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ৩৮টি পুরস্কার জিতেছে নীলার প্রতিষ্ঠান। মোহাম্মদপুরের কার্যালয় থেকে নীলার সঙ্গে কথা বলে বিদায় নেওয়ার সময় আত্মপ্রত্যয়ী নীলা বলেন, ‘দেশের ৫০ শতাংশ নারী যেন প্রযুক্তি খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি ও ধরে রাখতে পারে, সে জন্য আগামী দিনগুলোতে কাজ করে যাব।’

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন