তখন এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিতে শুরু করেন সারজীনা। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে, আবাসনপ্রতিষ্ঠানের তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সারজীনা বুঝতে পারেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। শুধু তা–ই নয়, এই খাতের জন্য যথেষ্ট মেধাবী ও সৃজনশীল লোকজনও রয়েছেন। দরকার শুধু একটি সমাধান, যা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খরচে মানুষের চাহিদা পূরণ করবে। সেখানে মানুষের বিশ্বাস থাকবে, আস্থা থাকবে, জবাবদিহিও থাকবে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সহপ্রতিষ্ঠাতা নিজাম ফরিদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন অন্দরসজ্জার প্রতিষ্ঠান ‘সেরাস্পেস’।

শুরুতে আর দশটি প্রতিষ্ঠানের মতো সশরীর এই সেবা দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু গোল বাধল করোনা মহামারি। তাই বাধ্য হয়ে করোনার সময় ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিষয়টি অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেন। সারজীনা বলেন, ‘করোনার কারণে চিন্তা করতে লাগলাম এ সেবা সহজে কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। সেই চিন্তা থেকে আমরা অনলাইনে এ সেবা চালু করি। তখন থেকে দেশে প্রথম অনলাইনভিত্তিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন কনসালট্যান্সি সেবার শুরু।’

সারজীনার ধারণা ছিল, সরাসরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা স্থাপত্যে পড়াশোনা না থাকায় কর্মীদের একটি ভিন্ন ইনসাইড দেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহারে তাঁর দখলটা সেখানে বাড়তি কিছু যোগ করেছে। সৃজনশীল ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করাটাও একটা আনন্দের বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

দেশে মানুষের মধ্যে সাধারণ ধারণা ছিল ইন্টেরিয়র ডিজাইন ধনীদের বিষয়। যাদের পক্ষে একটি বাড়ি বানানোই দুঃসাধ্য, তারা কীভাবে এটি গ্রহণ করবে—এ প্রশ্নের জবাবে সারজীনা বলেন, ‘এই জায়গায় সত্যি আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মানুষকে বিশ্বাস করাতে হয় যে তারা সত্যিকার অর্থে পেশাদার ডিজাইনার বা নকশাবিদদের পরামর্শ পাচ্ছে। খরচও কম। তখন তারা বুঝতে পারে, এই কাজ করা যায়। আমরা সেই জায়গায় কাজ করতে পেরেছি। আমাদের প্যাকেজ শুরু মাত্র ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে।’

সারজীনার মতে, দেশে অন্দরসজ্জার বাজারটি অনেক বড়। ভোক্তাপর্যায় থেকে তাঁরা ভালো সাড়া পাচ্ছেন। নতুন নতুন চাহিদাও আসছে। সম্প্রতি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অফিস ও বাণিজ্যিক কাজেরও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এতে স্টার্টআপগুলোর কর্মপরিবেশটা আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। গ্রাহকদের জানাশোনার ব্যাপ্তি বাড়ানো সম্ভব হলে এ খাতের আরও বিকাশ হবে বলে সারজীনার ধারণা।

দুজনের প্রতিষ্ঠানে এখন কর্মীর সংখ্যা ৪০, যার অর্ধেকই নারী। দেশের নানা প্রান্ত ছাড়া যুক্তরাজ্য ও কানাডাতেও তাঁরা কোনো না কোনো সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছেন। এভাবে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন বলে জানান সেরাস্পেসের এই উদ্যোক্তা।

বাবা–মা রাশিয়ায় থাকাকালে সারজীনার জন্ম। দেশে ফিরে এ লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন। কিছুদিন আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ‘ডিজরাপ্টিং স্ট্র্যাটেজিক’কোর্স সম্পন্ন করে এখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্ট্রােপ্রনিউরশিপে দ্বিতীয় মাস্টার্স করছেন।

সাধারণ মানুষের বসবাস ও কাজের ‘স্পেস’ ক্রমাগত ‘সেরাস্পেস’ হয়ে উঠুক, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে চান সারজীনা।

উদ্যোক্তা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন