তথ্যপ্রযুক্তি: নকরেক আইটি ইনস্টিিটউট
তরুণদের পথ দেখােচ্ছন সুবীর
নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একদল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা আমাদের চমৎকৃত করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। তাঁদের কেউ কেউ প্রতিজ্ঞায় অটল থাকতে কয়েক লাখ টাকা লোকসানও দিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের অনেকে নিজেই তাঁর প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করে নিচ্ছেন, কেউ সোনালি আঁশের পুনর্জাগরণের প্রচেষ্টা নিয়েছেন। আবার কেউ একেবারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন দিনের আলো জ্বালাচ্ছেন। এ রকম সাধারণের মধ্যে অসাধারণ ছয় প্রতিষ্ঠানের সাত উদ্যোক্তা পেয়েছেন আইডিএলসি-প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার-২০২২
২০১৬ সালে ঢাকায় একটি কর্মশালায় আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ সম্পর্কে ধারণা পান গারো তরুণ সুবীর নকরেক। এরপর ধীরে ধীরে নিজের চেষ্টায় গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস ও ডিজিটাল বিপণনে দক্ষ হয়ে কাজ করতে তিনি সোজা চলে যান মধুপুর বনাঞ্চলের নিজ গ্রাম গায়রাতে। তিনি গ্রামের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের ধারণা দিতে শুরু করেন। আশপাশের গ্রামগুলোতেও তিনি বিনা মূল্যে সেমিনার করেন, সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেন।
২০১৭ সালে সুবীর নকরেক প্রতিষ্ঠা করেন ‘নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট’। পাশাপাশি ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলি, গাজীপুরের ফুলবাড়িয়া, জামালপুরের নান্দিনা ও ঢাকার বসুন্ধরায় চারটি শাখা খোলেন তিনি। সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনারের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার তরুণ–তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের ধারণা দিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
সুবীরের প্রতিষ্ঠিত নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই গারো, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতাল, রাজবংশী, বর্মণ, কোচ, ওঁরাও, ত্রিপুরা, পাংখো, রাখাইন, খাসিয়া, হাজং, বম, ম্রো সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। সুবীর নকরেক বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগ্রহ থাকলেও সেসব গ্রামের অনেকের পক্ষেই প্রশিক্ষণ কোর্স করার জন্য প্রয়োজনীয় এক-দুই হাজার টাকা দেওয়াও কষ্টকর।’
‘বনে বসে সুবীরের ডলার আয়’ শিরোনামে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশের পর সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয় আম্বার আইটি ও গ্রামীণফোন।
২০১৭ সালে নকরেক ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জেমস নামের একজন এখন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির কাজ করেন। হিমালয় নকরেক নামের আরেকজন গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করছেন। নিপেদন দিনা মৃ ২০১৯ সালে নার্সিং ছেড়ে নকরেক আইটিতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোর্স শেষ করার চার দিন পরই কাজ পান। তিনি এখন একজন ডিজিটাল মার্কেটার। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাঁকরকান্দিতে বসেই দেশ-বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করেন তৃষ্ণা।
সুবীর নকরেকের মা-বাবা টাঙ্গাইলের মধুপুরের গায়রা গ্রামে তাঁকে ১০০ শতাংশ জমি দিয়েছেন। সেখানে তিনি দুটি টিনশেড ঘর বানিয়েছেন, যেখানে ৫০টি কম্পিউটার নিয়ে নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের ট্রেনিং সেন্টার ও লাইব্রেরি রয়েছে। আশা করা যায়, সুবীর ৫০টি গ্রামের পিছিয়ে থাকা ২০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক তরুণকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ করে তুলবেন, যাতে তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।