বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কর আদায়ের হার বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মানুষের ভয়ভীতি দূর করতে কর আদায়ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে হবে।
আতিউর রহমান, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

‘প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো এবং অসমতা দূরীকরণ’ শিরোনামের সেমিনারে বক্তারা বলেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষ কর দেন না, এটা যেমন ঠিক, তেমনি কর দিতে মানুষের ভয়ভীতি ও হয়রানির আশঙ্কাও ঠিক। কর আদায়ের হার বাড়াতে হলে মানুষের ভয়ভীতি দূর করতে হবে। পাশাপাশি পুরো কর–কাঠামো ডিজিটাইজ করতে হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। বিদ্যমান আইনকানুন যুগোপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়াতে হবে।

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক নাজিম উদ্দিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা মোর্শেদ, এনবিআরের ডেপুটি কমিশনার ওমর ফারুক খান, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার ফারুক, সিলেট ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি স্বর্ণলতা রায়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে কর দেওয়ার প্রবণতা ততটা বাড়েনি। ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ২৫ লাখ মানুষ রিটার্ন দেবে, এটা হতে পারে না। নেপালের মতো দেশেও জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের হার ১৯ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ।

সাবেক এই এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কর ফাঁকি কমাতে হবে। সে জন্য এনবিআরকে শক্তিশালী করতে হবে। বিদ্যমান জনবল–কাঠামো দিয়ে কর আদায় বাড়ানো যাবে না। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের প্রবণতা হলো, যতক্ষণ কর না দিয়ে থাকা যায়, ততক্ষণ কর না দেওয়া। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে। ঢাকার অনেক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের কর দেওয়ার সামর্থ্য থাকলেও দেন না। আর প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হলে এনবিআরের জনবল বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এনবিআরের কাঠামো ঠিক নেই বলে মনে করেন নাসির উদ্দিন আহমেদ। এনবিআর একদিকে নীতিকৌশল প্রণয়ন করে আবার অভিযানও পরিচালনা করে। কর অঞ্চল ১, ২, ৩—এসব দিয়ে কর আদায় হার বাড়বে না। মানুষের কর দেওয়ার মানসিকতা যেমন জরুরি, একই সঙ্গে এনবিআরের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

গত শতকের ষাটের দশকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা একই ছিল। অথচ এখন দক্ষিণ কোরিয়া কোথায় আর বাংলাদেশ কোথায়। জনগণকে দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ করে কর আদায়ের হার বাড়াতে পেরেছে তারা। বাংলাদেশেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। আতিউর রহমানের মত, যাঁরা কর দেন না, তাঁরা দেশকে ভালোবাসেন না। আর তাঁরাই গর্বিত নাগরিক, যাঁরা কর দেন।

আতিউর রহমান আরও বলেন, কর আদায়ের হার বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মানুষের ভয়ভীতি দূর করতে কর আদায়ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে হবে। কর দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে হটলাইনে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া কর দেওয়ার নিয়ম সহজ করতে হবে। প্রয়োজনে যাঁরা কর দেন, তাঁদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মূল প্রবন্ধে এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো, দেশট অসম সমাজে পরিণত হচ্ছে। অন্যটি হলো, জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায়ের হার পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় কম—এটাই অসমতা বৃদ্ধির মূল কারণ।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন