মিউচুয়াল ফান্ড বা তহবিল পরিচালনাসংক্রান্ত বিধি ভঙ্গ ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান এল আর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানিটি আগামী এক বছর নতুন কোনো তহবিল গঠনও করতে পারবে না।
একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে (বিজিআইসি) ২৫ লাখ ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এসব ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের গতকাল বুধবারের সভার এসব সিদ্ধান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এর আগে তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজি ও সুবিধাভোগী লেনদেনের কারণে একজন মার্চেন্ট ব্যাংকারকে পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ ও বিএনপিদলীয় এক নেতাকে কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। বলা হচ্ছে, এল আর গ্লোবালের অনিয়মগুলো আরও বেশি ভয়াবহ।
যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যে মাত্রার অপরাধ করেছে তার তুলনায় শাস্তি খুবই অপ্রতুল ও নমনীয়। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারত এবং সেটিই করা উচিত ছিল। তবে বিএসইসি যে এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটি একটি ভালো উদ্যোগ।
লঘু শাস্তি কি না জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। কমিশন যা ভালো মনে করেছে, সেই ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, এল আর গ্লোবাল তার ব্যবস্থাপনায় থাকা বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিটধারীদের প্রায় শত কোটি টাকা সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করে অনুমোদনহীন ব্যক্তিমালিকানার বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিধিবহির্ভূতভাবে তার ব্যবস্থাপনায় থাকা বিভিন্ন তহবিল থেকে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় সোয়া কোটি টাকা নিয়েছে।
এর বাইরে কোম্পানিটি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একই তহবিলের উচ্চসুদের এক ব্যাংক হিসাব থেকে ঘন ঘন টাকা উত্তোলন করে কম সুদের অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছে। এতে করে ওই টাকার বিপরীতে সুদ আয় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চসুদের পরিবর্তে কম সুদে তহবিলের টাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদি আমানত রেখেছে। আবার বিধি ভঙ্গ করে এক তহবিলের টাকা অন্য তহবিলে বিনিয়োগ করেছে।
বিএসইসি বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিমালিকানার অনুমোদনহীন কোম্পানিতে যে বিনিয়োগ ও নির্ধারিত মাশুলের বাইরে তহবিল থেকে যেসব অর্থ এল আর গ্লোবাল নিয়েছে, তা ৩০ জুনের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও এল আর গ্লোবালের এমডি রিয়াজ ইসলামের মুঠোফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়।
গত বছরের ২৪ জুলাই এসব অনিয়ম নিয়ে প্রথম আলোতে ‘শেয়ারবাজারে অর্থ লুটের আরেক কেলেঙ্কারি’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন