এ সময় জরুরি পণ্য কিনুন ঘরে বসেই

বিজ্ঞাপন
default-image

বাজার করতে এখন আর বাজারে যাওয়া জরুরি নয়। সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় যা কিছু প্রয়োজন, তা কেনা যায় অনলাইনেই। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, ওষুধ, এমনকি পশুপাখির খাবার কিনতে চাইলেও আপনাকে ঘরের বাইরে যেতে হবে না।

মুঠোফোনটি হাতে নিন। ই-কমার্স সাইটগুলোতে যান। পণ্য সরবরাহের আদেশ বা অর্ডার করুন। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাবে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে যে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে, তার মধ্যেও ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালু রেখেছে। সুপারশপগুলোরও রয়েছে বাসায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া বা হোম ডেলিভারি সেবা। আর বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিপণনকারী কোম্পানিগুলোও এখনকার জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিনিধিদের দিয়ে বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। এদিকে সরকার সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এখন অনলাইনে কেনাকাটায় ব্যাপক চাপ। যেমন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, তাদের অথবা ডটকম নামের ই-কমার্স সাইটে ক্রেতার চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। মানুষ বেশি কিনছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

বাজার করার সাইট

দেশে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটের মধ্যে রয়েছে চালডাল ডটকম, দরাজ ডটকম, অথবা ডটকম, আজকেরডিল ডটকম, বিক্রয় ডটকম, প্রিয়শপ ডটকম ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেয়। চাল, ডাল, তেল, চিনি, সাবান ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য নানা পণ্য তাদের কাছ থেকে আপনি কিনতে পারেন।

সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠান বিপুল সরবরাহের আদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছিল। অনেকে সরবরাহ আদেশ নেওয়া বন্ধই করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন চাপ কিছুটা কমেছে। তারপরও সামাল দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

চালডাল ডটকমের হেড অব গ্রোথ ওমর শরীফ ইবনে হাই বলেন, সরবরাহ আদেশ সামাল দিতে আমরা নিয়মিত নতুন লোক নিয়োগ করছি। এক সপ্তাহে আমাদের নিয়োগ করা কর্মীর সংখ্যা ৩০০ জনের বেশি। তিনি বলেন, প্রচুর নতুন ক্রেতা এখন অনলাইনে পণ্য কিনছেন। চাপ এত বেশি যে নির্দিষ্টসংখ্যক সরবরাহ আদেশের বেশি নেওয়া যাচ্ছে না।

মাছ-মাংসও অনলাইনে

শুধু চাল–ডাল নয়, মাছ, মাংস ও সবজিও কেনা যায় অনলাইনে। কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা মাছ কেটেকুটে বাসায় দিয়ে যায়। ফিশমার্ট ডটকমডটবিডি, ফ্রেশফিশবিডি ডটকম, গেটইয়োরফিশ ডটকম, মুদিম্যান ডটকম, দেশিফিশ ডটকম, পারমিদা ডটকম, ফিশঢাকা ডটকম, নদীরমাছ ডটকম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান
রয়েছে এ তালিকায়। শাকসবজি ডটকম মূলত শাক-সবজি সরবরাহ করে, সেটা বুঝতেই পারছেন। দেশিবাজার ডটশপে পাবেন শাক-সবজি ও ফল। ফল কিনতে পারেন তাজাফল ডটকম থেকেও।

সুপারশপের পণ্য বাসায়

আপনি সুপারশপে কেনাকাটা করে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন যেতে পারছেন না। সমাধান আছে। কিছু কিছু সুপারশপ পণ্য বাসায় পোঁছে দিচ্ছে।

সুপারশপ স্বপ্নের ফেসবুক পাতায় নির্দিষ্ট এলাকার তাদের স্টোরের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। আপনার বাসা যদি স্বপ্নের স্টোরের দুই কিলোমিটারের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা পণ্য পৌঁছে দেবে। মিনাক্লিক তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, আপাতত তারা শুধু জরুরি পণ্যের অর্ডার নিচ্ছে। কারণ চাপ অত্যন্ত বেশি।
সবাইকে তারা জরুরি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত
করতে চায়। সুপারশপে হোম ডেলিভারির আদেশ কেমন বেড়েছে, জানতে চাইলে স্বপ্নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাব্বির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আমাদের এখন মোট বিক্রির ১০ শতাংশের মতো হচ্ছে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে। এটা কিছুদিন আগেও খুব সামান্য ছিল।

পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে বড়রাও

নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় কোম্পানির পণ্য আপনি যদি ঘরে বসে কিনতে চান, সে সুযোগও আছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ফ্রেশ ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা যাবে ই-ফ্রেশস্টোর ডটকম থেকে। সঙ্গে থাকছে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মূল্যছাড়। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

এমন সুযোগ দিচ্ছে নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী সিটি গ্রুপও। ফেসবুকে তাদের তির নামের পেজে মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে। সেখানে ফোন করলে ঢাকা ও খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় তাদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

কিছু কিছু করপোরেট আবার বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। যেমন স্কয়ার টয়লেট্রিজের ৪০০ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য প্রিয়শপ ডটকম থেকে কিনলে বিনা খরচে তারা পৌঁছে দেয়।

ওষুধ কোথায়

এখন ওষুধের দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। তবে আপনি ঘরে বসেও ওষুধ কিনতে পারেন। সুপরিচিত ওষুধের দোকান লাজফার্মার অনলাইনে ওষুধ কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। ফার্মাসি ডটকমডটবিডি, বাংলামেডস ডটকমডটবিডি, ইফার্মা ডটকমডটবিডি, ওষুধ ডটকম, ওষুধওয়ালা ডটকম ইত্যাদি ই-কমার্স সাইটে আপনি ওষুধ কিনতে পারেন।

টাকা পরিশোধ কীভাবে

টাকা পরিশোধ করতে পারেন ব্যাংকের ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। বিকাশ-রকেটের মতো মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা (এমএফএস) তো রয়েছেই। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নগদ টাকাও নেয়। সেটা পণ্য সরবরাহের সময় দিতে হয়।

বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার হিসাব খোলা কিন্তু খুবই সহজ। আবার ব্যাংক হিসাব থেকে এমএফএস হিসাবে সহজেই টাকা আনা যায়। মুঠোফোন রিচার্জও করতে পারবেন।

সমস্যাও আছে

সমস্যা হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরবরাহের সীমানা ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার ছুটির শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কিছু সদস্য এসব পণ্য সরবরাহে সমস্যার তৈরি করছিল, যা এখন কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরবরাহ আদেশের বিপরীতে আপনি পণ্য পাবেন কি না, তা অনেকটা নির্ভর করে এলাকাভিত্তিক বাড়ির মালিক সমিতির ওপর। করোনার প্রার্দুভাবের পর অতি সতর্ক কিছু সমিতি পণ্য সরবরাহকারীদের ঢুকতে দেয় না। তাই আপনার এলাকার সমিতির সঙ্গে কথা বলে আপনার পণ্য প্রবেশ নিশ্চিত করুন। করোনা ঠেকানো যেমন জরুরি, তেমনি নিত্যপণ্যের সরবরাহও জরুরি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন