default-image

তিন-চার বছর ধরেই চাকরির বাজার খারাপ ছিল। প্রতিবছর স্নাতক পাস করে যত তরুণ-তরুণী চাকরির বাজারে আসেন, তাঁদের অর্ধেকের মতো চাকরি পান। বাকি অর্ধেক বেকার থাকেন। তবে স্নাতক ডিগ্রির কম পড়াশোনা জানা তরুণ-তরুণীরা তুলনামূলক বেশি কাজ পান। কিন্তু করোনার কারণে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো। চাকরির সুযোগ কমেছে। অর্থনীতি চাঙা না হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

করোনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের চাকরির বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনার আগে কারিগরি বা ভোকেশনাল ডিগ্রিধারীদের চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি ছিল। করোনায় এই খাতেও প্রভাব পড়েছে। আর্থিক ভিত্তি ভালো থাকায় বড় বড় কোম্পানিতে সেই তুলনায় হয়তো কম প্রভাব পড়েছে। সব মিলিয়ে করোনায় চাকরি বাজারে একধরনের সংকট তৈরি করেছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে যদি সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, যাতে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য আবার চালু করতে পারে। তাহলে আবারও বিপুলসংখ্যক কর্মীর দরকার হবে। এতে কাজ হারানো লোকগুলোর আবার কর্মসংস্থান হবে।

বিজ্ঞাপন

করোনার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষিত তরুণদের মানসিকতার পরিবর্তনও আনতে হবে। করোনার কারণে এমনিতেই চাকরির বাজারে মন্দাভাব আছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের একটু ছাড় দিতে হবে। তাঁদের বুঝতে হবে, বর্তমান সময়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আগের মতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি হবে না। তাঁদের প্রত্যাশা আরেকটু কমাতে হবে। যেকোনো চাকরি করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

এমনিতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা চাহিদা অনুযায়ী জনবলের জোগান দিতে পারছে না। বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। করোনা-পরবর্তী চাকরির বাজারের চিত্রও পরিবর্তন হতে পারে। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, অনলাইন মার্কেটিংসহ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ বাড়বে। অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞাপনপ্রবাহ গত এপ্রিল ও মে মাসে বেশ কমেছে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। তবে কর্মসংস্থানের চাহিদা বদলে গেছে। এখন উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি—এসব খাতে চাকরির বিজ্ঞাপন বাড়ছে। করোনার আগে স্বাভাবিক সময়ে সাধারণত পণ্য বা সেবার বাজারজাতকরণে (মার্কেটিং) বেশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসত।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিডিজবসডটকম

মন্তব্য পড়ুন 0