তথ্যানুসারে, এপ্রিল মাসের ২৮ দিনে বসুন্ধরা গ্রুপ পরিশোধন করে বাজারজাত করেছে সোয়া তিন কোটি লিটার সয়াবিন তেল। গেল মাসে বাজারজাত হওয়া মোট সয়াবিনের ৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিটি গ্রুপ বাজারজাত করেছে ১ কোটি ৪৩ লাখ লিটার সয়াবিন তেল। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেঘনা গ্রুপ ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ৮৮ লাখ লিটার, টিকে গ্রুপ ৮৭ লাখ লিটার ও সেনা কল্যাণ এডিবল অয়েল ৫৪ লাখ লিটার সয়াবিন তেল বাজারজাত করেছে।

সয়াবিন তেল জাহাজ থেকে খালাস, পরিবহন ও পরিশোধন পর্যায়ে তিন থেকে চার শতাংশ অপচয় হয়। সে হিসাবে বাজারজাতের সময় তিন-চার শতাংশ বাদ যাওয়ার কথা।

সয়াবিন তেল সংকট শুরু হওয়ার পর আমদানি থেকে বাজারজাত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তদারক করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারি সংস্থাগুলো। ফলে বাজারজাতের আগের প্রতিটি ধাপে গতি এসেছে।

তবে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুরোপুরি তদারক করা যাচ্ছে না। এতে কোম্পানিগুলো ডিলারের মাধ্যমে সয়াবিন তেল বাজারজাত করলেও দোকানের তাকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সয়াবিনের বোতল শোভা পাচ্ছে না।

গতকাল রোববার কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তেমনই চিত্র মিলেছে। দোকানে সয়াবিন তেল পাওয়া না গেলেও পরিবেশকের গুদামে মিলেছে কার্টনে কার্টনে সয়াবিন তেলের বোতল। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের অভিযানের পরপর উধাও হয়ে যাওয়া সয়াবিনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজ সোমবার আবার উধাও সয়াবিন তেলের বোতল।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা বাজারে সয়াবিন তেল সরবরাহ করছি। এত সয়াবিন তেল কোথায় যাচ্ছে?’ উল্টো প্রশ্ন করে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই পরিবেশক বা অন্য কোনো স্তরে সয়াবিন তেল ধরে রাখা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ক্রমেই অস্থির হতে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের বাজার। এরপর মার্চের মাঝামাঝি আর্জেন্টিনা সয়াবিন তেল রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণা দেয়। আর ২৮ এপ্রিল থেকে ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানিও কমতে শুরু করে গত দুই মাসে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন