অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), কিউকমের পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার ও কিউকমকে চিঠি পাঠানো হয়েছে একজন করে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য। প্রতিনিধি চেয়ে আরও ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অর্থাৎ ২০ জনকে টাকা দেওয়ার অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিবসহ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে উপস্থিত থাকবেন ২৫ জন। কিউকমের ৬ হাজার ৭২১ জন গ্রাহককে ৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার একটি তালিকা হয়েছে ১০ জানুয়ারি। কিউকম ও ফস্টার যৌথভাবে এ তালিকা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তালিকা অনুযায়ী ৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পরে এটা আরও বাড়বে।

তালিকা জমা দেওয়ার দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক আবেদনপত্রে বলা হয়েছিল, এটি আংশিক তালিকা। সময় পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে উভয় প্রতিষ্ঠান মিলে আবার তালিকা তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহ সময় দিলেও কিউকম ও ফস্টার আর কোনো তালিকা করতে পারেনি বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ফস্টারের কাছে কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা আটকে আছে, এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক টাকার বিপরীতে গ্রাহকদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হয়নি।

সরকারের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি কিউকমের গুদাম পরিদর্শন করে অনেক মোটরসাইকেল পেয়েছে। এগুলো গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের অপেক্ষায় ছিল। প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণে এসেছে, মোটরসাইকেলগুলোতে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এগুলোর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে বলে একজন কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুবর্ণ বড়ুয়া সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ইতিহাসেই এটা উদাহরণ হয়ে থাকবে যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে এগুলো শুধু পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা। পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে নেই, কিন্তু কোম্পানি টাকা নিয়েও পণ্য দেয়নি, সেই সব গ্রাহকদের টাকা ফেরতের উপায়ও বের করতে হবে।’

ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ, ধামাকা, আলাদিনের প্রদীপ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বঞ্চিত গ্রাহকদের টাকা ফেরতের কৌশল নির্ধারণ করতে পরামর্শ দেন সুবর্ণ বড়ুয়া।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করে কিউকম ডটকম। ই–ভ্যালির মতো তারাও বিশাল ছাড়ে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে আসছিল। কিউকম ‘বিজয় আওয়ার’, ‘স্বাধীনতা আওয়ার’, ‘বিগ বিলিয়ন’ নামে বিভিন্ন অফারে কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিত। অগ্রিম টাকা নিয়ে ২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্রাহককে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিত প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তাদের নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ছয় লক্ষাধিক। ফস্টার আটকে রাখায় গ্রাহকদের ৪২০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি অভিযোগও দিয়েছিল কিউকম।
ফস্টারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এটি এসএসডি টেক নামের একটি কোম্পানির পেমেন্ট সার্ভিস উইং। বাংলাদেশের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও সিঙ্গাপুরেও তারা রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়। রাজধানীর গুলশানে উদয় টাওয়ারে তাদের কার্যালয়।

প্রতারণার অভিযোগে গ্রাহকের করা মামলায় গত অক্টোবর মাসে কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এখনো হাজতেই আছেন।

পূর্ণাঙ্গ তালিকার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিউকমের অফিস বন্ধ। খোলার আগ পর্যন্ত পূর্ণ তালিকা পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে না, তবে গুদাম দেখে অনুমান করা যাচ্ছে, অন্তত ১০০ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন