default-image

বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা অহিদুর রহমান। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় গিয়ে দুই বছর পর গত ডিসেম্বরে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দুই বছরের প্রবাসজীবনে টেনেটুনে ধারদেনা পরিশোধ করলেও সঞ্চয় করতে পারেননি এক কানাকড়িও। দেশে ফিরে এখন রাজধানীতে নিরাপত্তাপ্রহরীর কাজ করছেন। সরকার মালয়েশিয়ায় যেতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে দিলেও অহিদুর রহমানকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশে অভিবাসী খরচ নিয়ে বড় আকারের জরিপ করেছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেখানে দেখা গেছে, সরকার–নির্ধারিত অভিবাসী খরচের হিসাব কাগজে–কলমেই সীমাবদ্ধ। সরকারের বেঁধে দেওয়া খরচের চেয়ে আড়াই গুণ খরচ হয় একজন অভিবাসীর। আর সেই অর্থ তুলে আনতেই লেগে যায় প্রায় ১৮ মাস।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সময়ে যাঁরা অভিবাসী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের মধ্যেই দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপটি করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ওই সময়ে যাঁরা প্রবাসে গেছেন, তাঁদের মধ্যে ৬৩ শতাংশেরই বিমার ব্যবস্থা নেই। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় সম্পত্তি বা জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ অভিবাসী। নারী ও পুরুষ মিলে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে সৌদি আরব ছিল প্রধান গন্তব্য দেশ। তবে একজন অভিবাসীর সবচেয়ে বেশি খরচ পড়ে সিঙ্গাপুর যেতে।

জানতে চাইলে অভিবাসন ব্যয় জরিপ ২০২০–এর প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে অভিবাসীদের তথ্যভান্ডার সংগ্রহ করে জরিপটি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দৈবচয়নের ভিত্তিতে উত্তরদাতা ছিল আট হাজার অভিবাসী পরিবার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—ওই দুই মাস ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিএস।

কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৫ থেকে ২০১৮—এই সময়কালে দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৩ হাজার। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ ছিলেন পুরুষ। ৪ লাখ বা ১৫ শতাংশ ছিলেন নারী। জরিপে একজন অভিবাসীর সব মিলিয়ে বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হয়, আর মাসে কত টাকা আয় হয়—এসব বিষয় তুলে আনা হয়েছে। এ ছাড়া জরিপটির মাধ্যমে অভিবাসীদের আর্থসামাজিক ও জনমিতির অবস্থা, অভিবাসীদের বৃত্তান্ত, ঋণ বা ধারের উৎস, ঋণ পরিশোধ, শ্রম অভিবাসীদের শিক্ষার অবস্থা, প্রধান গন্তব্যের দেশ কোনটি—এসব বিষয়েও তথ্য আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

খরচ ওঠাতেই ১৮ মাস

বিবিএস বলছে, একজন অভিবাসীর সবকিছু মিলে বিদেশ যেতে গড় খরচ হচ্ছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। যদিও নারীর তুলনায় পুরুষের বিদেশ যাওয়ার খরচ বেশি। একজন নারী কর্মীর গড় অভিবাসন খরচ ১ লাখ ১০২ টাকা। আর একজন পুরুষ অভিবাসীর খরচ ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৬৮ টাকা। অর্থাৎ অভিবাসী কর্মী হিসেবে পুরুষদের নিয়োগ ব্যয় নারীদের তুলনায় চার গুণ বেশি।

অভিবাসনে সিঙ্গাপুর যেতে সরকার খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা, সৌদি আরবে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় যেতে ১ লাখ ৬০ হাজার, লিবিয়ায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮০ টাকা, বাহরাইনে ৯৭ হাজার ৭৮০ টাকা, ওমানে ১ লাখ ৭৮০ টাকা এবং কাতারে ১ লাখ ৭৮০ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, একজন অভিবাসী কর্মীর বিদেশ যেতে মোট যে টাকা খরচ হয়, তা ওই অভিবাসী কর্মীর প্রায় ১৭ দশমিক ৬ মাসের আয়ের সমান। খরচে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য আছে। নারীদের খরচ তুলে আনতে লাগে গড়ে ৫ দশমিক ৬ মাস, সেখানে একজন পুরুষের সময় লাগে গড়ে ১৯ মাস।

নারীদের নিয়োগ ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে সময় কম লাগার প্রধান কারণ হলো গৃহকর্মী হিসেবে অভিবাসী হওয়া। ৮৬ শতাংশ নারী গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত, সেখানে পুরুষ গৃহকর্মী ছিলেন মাত্র ১৪ শতাংশ। গৃহকর্মী হিসেবে নারী অভিবাসী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় অনেক কম।

সরকারের বেঁধে দেওয়া খরচের সঙ্গে মিল নেই

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, অভিবাসনে সিঙ্গাপুর যেতে সরকার খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা, সৌদি আরবে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় যেতে ১ লাখ ৬০ হাজার, লিবিয়ায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮০ টাকা, বাহরাইনে ৯৭ হাজার ৭৮০ টাকা, ওমানে ১ লাখ ৭৮০ টাকা এবং কাতারে ১ লাখ ৭৮০ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।

কিন্তু বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া খরচের চেয়ে একজন অভিবাসীর গড় ব্যয় হচ্ছে আড়াই গুণ। সৌদি আরবে যেতে নারী-পুরুষ মিলে গড়ে একজন অভিবাসীর খরচ পড়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৬ টাকা। মালয়েশিয়ায় যেতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৪৪৮ টাকা, কাতারে ৪ লাখ ২ হাজার ৪৭৮ টাকা এবং ওমানে ৩ লাখ ৮ হাজার ৪৭ টাকা। তবে সবচেয়ে খরচ বেশি সিঙ্গাপুর যেতে, ৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৪১ টাকা। উড়োজাহাজভাড়া, প্রশিক্ষণ, ঋণের সুদ পরিশোধ, নিয়োগকারীর ফি, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, ভিসা ফি, দালাল ফি, মেডিকেল, অভ্যন্তরীণ পরিবহন, পাসপোর্ট, কল্যাণ ফি ও দক্ষতা যাচাই—এসব খরচ ধরা হয়েছে।

■ সরকার–নির্ধারিত অর্থের তুলনায় খরচ আড়াই গুণ বেশি। ■ অভিবাসী কর্মীরা ব্যয়ের ৭৮ শতাংশই আত্মীয়স্বজন, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও, মহাজন, ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করেছেন। ■ ঋণ ফেরত দিতে না পারায় সম্পত্তি হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ। ■ নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নেই ৫৩ শতাংশের। ■ প্রধান গন্তব্য দেশ সৌদি আরব এবং বেশি যান কুমিল্লা থেকে। ■ পুরুষ কর্মীরা যেখানে ৮১ শতাংশ ঋণ করে বিদেশ গেছেন, সেখানে নারীদের করা ঋণ ৫৬ শতাংশ।

অভিবাসীর মাসওয়ারি আয় কত

একজন অভিবাসী যে টাকা খরচ করে প্রবাসে যান, তাঁর মাসওয়ারি আয় কত? বিবিএসের জরিপে উঠে এসেছে, অভিবাসী কর্মীর মাসিক গড় আয় ২৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। এর মধ্যে নারী কর্মীর মাসিক আয় ২০ হাজার ২১১ টাকা, পুরুষ কর্মীর মাসিক আয় ৩২ হাজার ৫৪২ টাকা। একজন অভিবাসী সবচেয়ে বেশি আয় করেন সিঙ্গাপুরে, সেখানে মাসিক গড় আয় ৪৬ হাজার ৮৯৫ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় আয় বেশি মালয়েশিয়ায়—২৯ হাজার ৭২৩ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে কাতার—২৯ হাজার ১৭৪ টাকা।

বিজ্ঞাপন

৭৮% ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন

জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসী কর্মীরা ব্যয়ের ৭৮ শতাংশই আত্মীয়স্বজন, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও, মহাজন, ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করেছেন। অভিবাসী কর্মীদের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক গঠন করা হলেও সেখান থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা খুবই কম। নারীর তুলনায় পুরুষদের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেশি। পুরুষ কর্মীরা যেখানে ৮১ শতাংশ ঋণ করে বিদেশ গেছেন, সেখানে নারীদের করা ঋণ ৫৬ শতাংশ।

দেশ থেকে যাঁরা প্রবাসে যান, অভিবাসন ব্যয় মেটাতে বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন থেকে টাকা নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ বলেছেন, বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন থেকে টাকা নিয়েছেন, ২৮ শতাংশ পরিবারের সদস্য থেকে টাকা নিয়ে খরচ মিটিয়েছেন। এনজিও থেকে নিয়েছেন ২০ শতাংশ আর মহাজন থেকে ১৫ শতাংশ।

ঋণ নিয়ে বিদেশ গেছেন, কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি, এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন ১৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ফলে সম্পত্তি বা জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন তাঁরা। আবার পুরুষের তুলনায় নারীরা জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন বেশি। যেমন পুরুষদের মধ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। আর নারী ব্যর্থ হয়েছেন ১৬ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, অভিবাসী খরচ দেওয়ার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক গঠন করা হলেও সুদের হার বেশি হওয়ায় কেউ ঋণ নিতে রাজি হন না। সুদের হার ৯ শতাংশ। তখন এক অভিবাসী শোষণমূলক সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে টাকা জোগাড় করেন। যেখানে সুদের হারের বিষয়টি থাকে না। অভিবাসীদের ঋণ দিতে শুধু প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক নয়, সব ব্যাংককে ঋণ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অভিবাসীদের ঋণ দিতে সব ব্যাংকের এগিয়ে আসা উচিত।

চুক্তি নেই ৫৩% কর্মীর

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিবাসী কর্মী যে দেশে গেছেন, সেখানকার নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই। অভিবাসী কর্মীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি চুক্তি আছে সিঙ্গাপুরের নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে। এরপর আছে মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব ও ওমান।

জরিপে অংশ নেওয়া ২৬ শতাংশ বলেছেন, অবকাশ সময় বা ছুটিতে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৫ শতাংশ বলেছেন কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ। তাই ফিরে এসেছেন। চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার কথা বলেছেন ১৩ শতাংশ। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয় কমে যাওয়ার কথা বলেছেন ১৪ শতাংশ।

শুধু প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক নয়, অভিবাসীদের ঋণ দিতে সব ব্যাংকের এগিয়ে আসা উচিত
তাসনিম সিদ্দিকী, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন, রামরু

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শামছুল আলম গতকাল বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিবাসন খরচ কমিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে অভিবাসীর গোপন সমঝোতার কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না। গোপনে বিমানবন্দরে গিয়ে অভিবাসীদের কাছে জানতে চেয়েছি, রিক্রুটিং এজেন্সিকে কত টাকা দিয়েছেন, একজন কর্মীও আমাদের সত্য কথা বলেননি। পরে যখন বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তখন বলেন তাঁর কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। তখন আর আমাদের কিছু করার থাকে না।’ শামছুল আলম বলেন, ‘আমরা দালাল নির্মূলের চেষ্টা করছি। সার্ভার বানাচ্ছি। আমরা সবাইকে বলি, জেনেশুনে বিদেশ যাবেন। দালাল ধরবেন না। কিন্তু মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে অভিবাসন খরচ কমানো কঠিন।’

প্রধান গন্তব্য দেশ সৌদি আরব

জরিপের আওতায় পুরুষ-নারী অভিবাসী কর্মীদের পৃথকভাবে প্রধান গন্তব্য দেশ বের করা হয়েছে। দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সময়ে নারী ও পুরুষ মিলে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে সৌদি আরব ছিল প্রধান গন্তব্য দেশ। নারী কর্মীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী সৌদি আরব গেছেন। পুরুষদের মধ্য সৌদি আরব গেছেন ২৯ শতাংশ।

বিবিএস বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮-এই চার বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৭ লাখ অভিবাসী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পুরুষ, বাকি ১৫ শতাংশ নারী। প্রধান গন্তব্যের বাকি দেশগুলোর মধ্যে আছে, যথাক্রমে ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার ও সিঙ্গাপুর। অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যা বিবেচনায় দেশের প্রধান উৎস জেলা হলো-কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ।

অভিবাসন খরচ কমিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে অভিবাসীর গোপন সমঝোতার কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না।
শামছুল আলম, মহাপরিচাল, বিএমইটি

সামগ্রিক বিষয়ে রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমবাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। যারা শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কোনো স্বচ্ছতা নেই। মানুষ বিদেশ যেতে আগ্রহী। বিদেশেও চাহিদা আছে। কিন্তু আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো স্বচ্ছতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তারা কম দামে ভিসা এনে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি করছে।’ তিনি আরও বলেন, কোম্পানি ভিসা ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে দেওয়া হবে না, এটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে। তাহলেই কেবল অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0