চাঙা হচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি

.
.

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। পল্লি এলাকায় কৃষি খাতের বাইরে ছোট-বড় প্রায় ৫৬ লাখ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দেশের মোট প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৭১ শতাংশ। এক দশকের ব্যবধানে গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৩২ লাখ ৬৭ হাজার প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।
অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
এ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, হোসেন জিল্লুর রহমান প্রমুখ। শুমারির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন।
বিবিএসের শুমারি অনুযায়ী, স্থায়ী, অস্থায়ী ও খানা বা পরিবারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫। এর মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী যথাক্রমে ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৯১টি এবং ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৩টি। অন্যদিকে পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৭১। পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। এক দশকের ব্যবধানে প্রায় ২৫ লাখের মতো বেড়েছে।
এক দশকের ব্যবধানে কৃষি খাতের বাইরে এসব প্রতিষ্ঠানে দ্বিগুণের বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন এ খাতে ২ কোটি ৪৫ লাখ জনবল রয়েছে। ২০০৩ সালে ছিল ১ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার ৪২২ জন।
বিবিএসের শুমারি বলছে, উৎপাদন খাতের ৮ লাখ ৬৬ হাজার ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩ হাজার ৫৯২টির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। দেশে যত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করে। আর ১ শতাংশের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই। মূসক নিবন্ধন নেই ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। এক দশকের ব্যবধানে পাঁচ গুণের বেশি প্রতিষ্ঠানে নারী নেতৃত্ব এসেছে। সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারিতে দেখা গেছে, ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখন নারী, যা মোট প্রতিষ্ঠানের ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ২০০৩ সালে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৫৮টি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন নারী।
এ ছাড়া দেশের সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন নারী কাজ করছেন, যা এ খাতে কর্মরতদের ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর পুরুষ কাজ করেন ২ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১৩২ জন। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পূর্ণকালীন কাজে রয়েছেন দেড় কোটির বেশি মানুষ।
আলোচনা: অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অকৃষি খাতে পল্লি এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। এতে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমছে। তাঁর মতে, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান সুসংহত হচ্ছে। দিন দিন এ খাতটি দেশের ভবিষ্যতের অর্থনীতির ভিতও গড়ে দিচ্ছে। তাই কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সারা দেশে ঘরে ঘরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ইউনিট থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দার মধ্যে অর্থনীতি গতিশীল রাখার সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তাই এ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আরও বেশি অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মা খাওয়ালে সেটা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আসে না। কিন্তু কেএফসি বা ম্যাকডোনাল্ডসে খেলে তা সঙ্গে সঙ্গে জিডিপিতে যুক্ত হয়। পরিবারের মা-বাবা, ভাইবোনদের কাজ যুক্ত হলে জিডিপির আকার আরও বেড়ে যেত।’ তিনি মনে করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অন্য দেশে যেভাবে গুরুত্ব পায়, বাংলাদেশে সেভাবে পায় না।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, বিবিএসের মহাপরিচালক আবদুল ওয়াজেদ প্রমুখ।