default-image

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। এর জন্য অনেক কঠিন শর্ত পূরণ করতে হয়। ৭১টি দেশ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা রাখলেও পাচ্ছে মাত্র ৮টি দেশ। এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। পুরো ব্যাপারটা রাজনৈতিক। সে জন্য সরকার ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বকে এখন থেকেই আলোচনার প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পায়, এলডিসি উত্তরণের পর সেগুলো আর থাকবে না। তখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। তা না হলে বিপদ হতে পারে বলেই মনে করেন বক্তারা।

গত বুধবার বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন: আমরা কি জিএসপি+ এর জন্য প্রস্তুত?’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিজিসিসিআইয়ের সভাপতি ওমর সাদাত বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নে বিজিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সাল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, অন্যদিকে এ বছরই এলডিসি উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ এল। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রস্তাব হচ্ছে—১. অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতার উন্নতি করতে হবে। ২. আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ৩. বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং ৪. উচ্চ হারে ঋণ গ্রহণ করা।

বিজ্ঞাপন
জিএসপি প্লাসের বিষয়টি শেষমেশ রাজনৈতিক। তাই সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায়িক নেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাপারটা শেষমেশ নির্ভর করবে নেতৃত্বের ওপর। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশেষ ফেলো, সিপিডি।

ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জিএসপি‍‍‍ প্লাসের জন্য কয়েকটি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। এর কয়েকটি মানদণ্ড বাংলাদেশ পূরণ করতে সক্ষম হলেও সব কটি পূরণ করার মতো জায়গায় নেই। তিনি জানান, একসময় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল কেপ ভার্দে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেখবে হবে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে। প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে হবে বলে তিনি মত দেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, জিএসপি প্লাসের বিষয়টি শেষমেশ রাজনৈতিক। তাই সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায়িক নেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাপারটা শেষমেশ নির্ভর করবে নেতৃত্বের ওপর।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, জিএসপি প্লাস সুবিধা শেষ বিচারে অবশ্যই রাজনৈতিক। সে জন্য দরকার কার্যকর আলোচনা। কিন্তু বাংলাদেশ ঠিক সেখানেই পিছিয়ে আছে বলে তাঁর আক্ষেপ। পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তিতেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম বড় বড় সব দেশ বা জোটের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ফেলেছে। অথচ বাংলাদেশ কেবল ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহা পরিচালক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এলডিসি গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে ডব্লিউটিওতে তিনটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে একটি পিটিএ স্বাক্ষর করেছে এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও জাপানকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও মনোনিবেশ করছে, বিশেষত বাণিজ্য সুবিধা লাভে মন্ত্রণালয় তৎপর।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজিএমএইএর নেতা ফারুক হাসান (সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট), বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক প্রমুখ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন