বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম পরিচালিত ‘কোভিড-১৯ ও ব্যবসায়িক আস্থা’ শীর্ষক এক জরিপে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কেমন হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১ শতাংশ বলেছে, পুনরুদ্ধার শক্তিশালী হচ্ছে। পুনরুদ্ধার মধ্যম মানের হচ্ছে বলে মত দিয়েছে ৫২ শতাংশ আর দুর্বল হচ্ছে জানায় ২৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

গতকাল বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ব্যবসায় আস্থা সংক্রান্ত ষষ্ঠ পর্যায়ের এই জরিপ সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে করা হয়েছে। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী চাপে পড়বে।

সেলিম রায়হান মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকার করোনা মহামারির শুরুতে যেভাবে প্রণোদনা দিয়েছে সেভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও তা দেওয়া যেত। দাম বাড়ানোর পরিবর্তে ভর্তুকি দেওয়া হলে তার সুফল সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাত। তিনি আরও বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির যে শঙ্কা আছে, তার সঙ্গে ব্যবসায়ীরা কীভাবে খাপ খাওয়ান, তা দেখার বিষয়।

জরিপ বলছে, সব খাতের পুনরুদ্ধার একই হারে হচ্ছে না। যোগাযোগ, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি অন্য খাতগুলোর চেয়ে ভালো করছে। এমনকি নিকট ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো করার আশা প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে ছোট প্রতিষ্ঠান বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জরিপে ব্যবসায়ীরা বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ মসৃণ নয়। অনেক বাধা পেরিয়েই তাঁদের এগোতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে এসেছে কোভিড নিয়ন্ত্রণে আরোপিত বিধিনিষেধ। তবে এখন বিধিনিষেধ নেই। সে কারণে জুন মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি আদেশ হ্রাস, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় ধস, চাহিদা কমে যাওয়া-এসব কারণকেও দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা।

জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা আগে প্রণোদনা পায়নি, তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে এদের মাত্র ২ শতাংশ প্রণোদনা পেয়েছে। আবার প্রণোদনা পাওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছে।

দেশের আট বিভাগের ৩৭টি জেলার মোট ৫০০টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এই জরিপ করা হয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন