বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার প্রতি ডলার ৯২ টাকা ৯৫ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি আমদানি বিল মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হয়েছে।’

তবে ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় আনছে ৯৫ টাকা ও তার বেশি দরে। রপ্তানি বিলও নগদায়ন করছে একই দামে। ফলে আমদানিকারকদের এর চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপে কম দামে ডলার বিক্রি করছে। ফলে ডলার ব্যবসায় আগে মুনাফা হলেও এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ট্রেজারি বিভাগে যুক্ত একজন ব্যাংকার জানান, ৮৮ টাকায় যে ডলার কেনা ছিল, তা ৯২ টাকার ওপরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে আগের চেয়ে মুনাফা বেড়েছে। এখন যে ডলার ৯৬ টাকায় সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা কিছুটা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডলারের দাম পুরোপুরি জোগান ও চাহিদার ওপর ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেত।

এদিকে চলতি মাসের ১-১৬ জুন পর্যন্ত ৯৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত মে মাসে এসেছিল ১৮৮ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয় আনতে ডলারের দামের সীমা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।

টাকার মান আরেক দফা অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় আরও বাড়বে, আর লাভবান হবেন রপ্তানিকারকেরা। আমদানি পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে তা মেটানো যাচ্ছে না। এতে তৈরি হয়েছে ডলার-সংকট। এ কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডলারের দাম।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন