পাইকারি ও খুচরায় দামের পার্থক্য এত বেশি কেন?

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য চাহিদার দেড় গুণ মজুত রয়েছে। রমজানে তাই নিত্যপণ্যের সংকট হবে না, দামও বাড়বে না।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কার্যালয়ে গতকাল সোমবার নিত্যপণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমন আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামের বড় পার্থক্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্যের বড় পার্থক্যের বিষয়টি উঠে আসে ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলার বক্তব্যে।
গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমরা যে দামে পণ্য বিক্রি করি, খুচরা ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করেন। এত পার্থক্য হয় কীভাবে? দুই বাজারের দামের পার্থক্য কমানো না গেলে ভোক্তারা সুফল পাবেন না।’
মৌলভীবাজারে গত রোববার প্রতি কেজি চিনি ৩৩ টাকা ৮৫ পয়সা, পাম তেল ৫৬ টাকা ৬১ পয়সা, সুপার পাম ৫৯ টাকা ও সয়াবিন তেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার চিত্র তুলে ধরেন গোলাম মাওলা।
বাণিজ্যমন্ত্রী খুচরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে বৈঠকে কে এসেছেন জানতে চাইলে কথা বলেন মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব। তিনি বলেন, ‘পাইকারিতে যে দামে চিনি বিক্রির কথা বলা হচ্ছে, সে দামে আমরা পাই না। শবে বরাতের আগে চিনি বিক্রি করেছি ৩৮-৪০ টাকায়। এখন চিনির দাম বেড়ে গেছে। ছোলার দামও বাড়তির দিকে।’ তিনি জানান, অন্যান্য পণ্যের দাম খুচরা পর্যায়ে স্থিতিশীল আছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরায় পণ্যের দামের পার্থক্য আসলেই অনেক বেশি। এটাকে সহনীয় রাখতে হবে। রমজানে চিনির দাম ৪০ টাকার ওপর যেন না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখারও পরামর্শ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতেও তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একটা কথা আছে, রোজার মধ্যে আপনারা হুটহাট করে দাম বাড়িয়ে দেন। রোজার মধ্যে যেন এটা করা না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যবসায়ীরা লাভ করবেন, কিন্তু সেটা যেন সহনশীল থাকে।’
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, ভারত থেকে আমদানি না হওয়ায় মাংসের দাম বেড়ে গেছে। তাঁর পরামর্শ, একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে।’