প্রবাসে আয় করলেই উচ্চ সুদে বন্ড কেনা যাবে না

  • প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন না, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড কেনার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বন্ড রুলসের পাশাপাশি কারা কিনতে পারবেন না, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিদেশে বসে দেশে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করলে নিশ্চিত ১২ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। আবার বেশি বিনিয়োগ করলে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হওয়ারও সুযোগ থাকে। ফলে এসব বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তবে এ জন্য সরকারকে বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। তাই প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন না, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে দেশের বাইরে অবস্থানকারী সবাই ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড কিনতে পারবেন না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড কেনার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বন্ড রুলসের পাশাপাশি কারা কিনতে পারবেন না, তা স্পষ্ট করা করেছে। যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রায় পেনশন পান, অথবা প্রবাস থেকে পেনশন পান, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে থাকেন, তাঁরা এই বন্ড কিনতে পারবেন না। ওয়েজ আর্নারের মৃত্যু–পরবর্তী চাকরির সুযোগ-সুবিধা বাবদ পাওয়া অর্থ দিয়েও এ বন্ড কেনা যাবে না। অর্থাৎ যাঁরা বিদেশে ছিলেন, কিন্তু এখন দেশে অবস্থান করছেন, তাঁদের কেউ এই বন্ড কিনতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বাংলাদেশি মালিকানাধীন শিপিং বা এয়ারওয়েজ কোম্পানির বিদেশি অফিসে নিয়োগ পাওয়া এবং সেখান থেকে বিদেশি মুদ্রায় পাওয়া অর্থ দিয়েও মেরিনার, পাইলট বা কেবিন ক্রুরা ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড কিনতে পারবেন না।
অবশ্য বিদেশে অবস্থিতি বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনে কাজ করা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই বন্ড কেনায় কোনো বাধা নেই। এ নিয়ে প্রবাসে অবস্থানরত অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রবাসীরা যাতে দেশে আয় পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হন এবং এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়—এমন লক্ষ্য নিয়ে সরকার প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ড চালু করে। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড। এর মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর। এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলারও সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলেন, তাহলে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা দেওয়া হয়। আট কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সিআইপি সুবিধা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন