বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাদা ও লাল চিড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খুচরা বাজারে সেটা ৮০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিড়ার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। বছরের অন্য সময় সাদা থেকে লাল চিড়া প্রতি কেজি ৫-৭ টাকা বেশি থাকলেও এখন চাহিদা বেশি থাকায় এই দুই পদের চিড়ার দামই সমান। চিড়ার সঙ্গে বেড়েছে গুড়ের দামও। তিন-চার দিন আগে মানভেদে প্রতি কেজি আখের পাটালি গুড়ের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। খুচরা বাজারে সেটা এখন সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা মুড়িও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের মো. রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে শুকনা খাবারের সরবরাহ কম। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে চিড়া ও মুড়ি ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেড়েছে। আর প্রতি কেজি আখের গুড়ের দাম বেড়েছে ২০ টাকার মতো। মিলাররা দাম বাড়িয়েছেন। এ জন্য দাম বাড়তি।’

মো. রাসেল আরও বলেন, বাজারে শুকনা খাবারের চাহিদা কমে এলে দাম আগের অবস্থায় ফিরবে। এদিকে ঢাকার বাজারে চিড়া-গুড়ের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সিলেটের বাজারে। সেখানেও চিড়া-গুড় কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সিলেটে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছাদ্দেক হোসেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ত্রাণের জন্য গত শনি ও রোবার চিড়া কিনেছিলাম ৬৪ টাকায়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সেটা কিনেছি ৭২ টাকায়। বন্যার কারণে এখানে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তি।’

এদিকে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল ঢাকায় কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ এক দিন আগেই তা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে টান থাকায় দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি টমেটো ১৬০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা এবং বেগুন ও শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে এসব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য পরিবার কার্ডের মাধ্যমে বিক্রির দ্বিতীয় দিনেও অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। এখনো কার্ড বিতরণ শেষ না হওয়ায় অনেক স্থানে ডিলাররা পণ্য বিক্রি শুরু করতে পারেনি। এতে ক্রেতারা অনেকেই হতাশা প্রকাশ করছেন। সারা দেশব্যাপী টিসিবির এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন