ব্যবসার ক্ষতি হলেও প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে

অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী (মাঝে) গতকাল ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ বক্তৃতা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএপির উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরী (বাঁয়ে) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী l ছবি: প্রথম আলো
অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী (মাঝে) গতকাল ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ বক্তৃতা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএপির উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরী (বাঁয়ে) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী l ছবি: প্রথম আলো

সফল উদ্যোক্তা হতে হলে ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি এ জন্য সাময়িকভাবে ব্যবসার কিছু ক্ষতি হলেও সেটি মেনে নিতে হবে। এমনটি মনে করেন দেশের সফল উদ্যোক্তা ও অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠান ও নিজের সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হতে সততা, কঠোর পরিশ্রম, কাজের প্রতি নিবেদন, সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বক্তৃতায় এসব কথা বলেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউএপির ক্যাম্পাসে গতকাল মঙ্গলবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।

শিক্ষার্থীদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার কাজে অনুপ্রাণিত করতে ইউএপির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ধারাবাহিক আয়োজন এই একক বক্তৃতা অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন খাতে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা নিজেদের সাফল্যের গল্প শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল এসেছিলেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী।

সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে। যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে খুবই সাদামাটা। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেটা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই। কাউকে না ঠকিয়ে সৎভাবে ব্যবসা করে যেতে হবে, সাফল্য এমনিতে চলে আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর সাত বছর বহুজাতিক কোম্পানি পাকিস্তান টোব্যাকোতে (বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো) কাজ করেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সাত বছরে চারবার পদোন্নতি পান তিনি। তবে চাকরির ধরাবাঁধা জীবন ভালো না লাগায় তখন থেকেই অন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে ওই চাকরি ছেড়ে ফ্রান্সের এক ব্যক্তির সঙ্গে চামড়ার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এরপর ১৯৭৫ সালে ১২ লাখ টাকা মূলধনে একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা কিনে নিয়ে অ্যাপেক্স ট্যানারি প্রতিষ্ঠা করেন। সেটি দিয়েই উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেন তিনি।

বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি ও প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পরিবার। এমনকি তাঁর স্ত্রীও ব্যবসা করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন না। এরপরও থেমে থাকেননি তিনি। ব্যবসা করার পথে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘অ্যাপেক্স ট্যানারির ব্যবসা চালাতে তিনবার বড় ধরনের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যে দামে পণ্য সরবরাহ করার চুক্তি হয়েছিল পরবর্তী সময়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তার চেয়ে বেশি দামে উৎপাদন করেও কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। তবু ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলাম।’

উদ্যোক্তা হতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, একজন ব্যবসায়ীর গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হলো ব্যাংক। কারণ, ব্যবসার মূলধন পেতে ব্যাংকের কাছে যেতে হবে। তবে ঋণ নিয়ে কখনো খেলাপি হওয়া যাবে না। এটি করতে পারলে ঋণ নিয়ে ব্যাংকই উদ্যোক্তার পেছনে ঘুরতে থাকবে।

সফল হতে কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, ‘একটা সময় দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেছি, ছেলেমেয়েকে বড় হতে দেখিনি।’ পরিশ্রমের পাশাপাশি কাজের প্রতি নিবেদনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, ভালো লাগা না থাকলে দীর্ঘ সময় কাজ করে যাওয়াটা বিরক্তিকর। যে কাজটি করতে ভালো লাগে সেটির উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। যে কাজটিই করা হোক না কেন, সেখানে এক নম্বর হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর সফলতার গল্প ভবিষ্যতে অনেক তরুণকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে। তাঁকে ইউএপিতে পেয়ে সম্মানিত ও আনন্দিত বোধ করছি।’