সাধারণ মানের বিপণিবিতান ও দোকানে বিক্রি কমার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের বড় অংশেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণে এই ঈদে তাঁরা পোশাক, জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনায় খরচ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার বন্যায় দেশের বেশ কিছু জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদ বিকিকিনিতে।

ঈদুল আজহার খরচের একটি বড় অংশই কোরবানির পশুর পেছনে ব্যয় করতে হয়। তাই পোশাকসহ অন্যান্য কেনাকাটায় খরচ করে না ক্রেতাদের একটি বড় অংশ। এ শ্রেণি মূলত সাধারণ মানের বিপণিবিতান ও নন–ব্র্যান্ডের দোকানের ক্রেতা। অন্যদিকে অভিজাত বিপণিবিতান ও ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি আশানুরূপ হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা।

পোশাকের ব্র্যান্ড জেন্টেলপার্কের বসুন্ধরা সিটির শাখা ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, তাঁদের বিক্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশই পূরণ হয়েছে। এই বিক্রি করোনার আগের তথা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।

পোশাকের ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘রোজার ঈদে ভালো ব্যবসা হয়েছিল, সেই অনুসারে এবারও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।’

পোশাকের পাশাপাশি জুতা বিক্রিও বেশ ভালো। জুতার ব্র্যান্ড অ্যাপেক্সের বসুন্ধরা সিটির বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শামীম শেখ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিক্রির যে লক্ষ্য ঠিক করেছি, সেই অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে।’

তবে বিক্রি নিয়ে হতাশার কথা শুনিয়েছেন নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের বিসমিল্লাহ শাড়িজের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষ বেশি আসেন। তাঁরা এখন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছেন। তাই পোশাক কম কিনছেন।’

নূরজাহান মার্কেটের শার্ট ও প্যান্টের দোকান জাভিয়ার মালিক মহিউদ্দিন খোকন বলেন, ‘দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কম। আমরা সারা দেশে পাইকারি পণ্য বিক্রি করি। বন্যার কারণে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে পাইকারি বিক্রি ৫০ শতাংশ কম হয়েছে।’

চন্দ্রিমা মার্কেটের এম আর কালেকশনের বিক্রয়কর্মী ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে যেসব নতুন শার্ট–প্যান্ট বিক্রির জন্য তুলেছিলাম, তার ২০ শতাংশও বিক্রি হয়নি। অধিকাংশ ক্রেতাই দাম শুনে চলে যান। অথচ নতুন করে আমরা কোনো পোশাকের দাম বাড়াইনি। রোজার ঈদে সামান্য দাম বেড়েছিল।’

নিউমার্কেটের জিহান খাদিঘরের মালিক বাবুল মুন্সি বলেন, সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া পোশাক কম কিনছেন সাধারণ মানুষ।

আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ার কথা জানিয়েছেন নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের দোকানি মো. আরমান আলীও। আরমান বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই মাস ধরে রাস্তার ধারে ঠিকভাবে বসতে দিচ্ছিল না পুলিশ। চার–পাঁচ দিন হলো ফুটপাতে বসে পণ্য বিক্রি করতে পারছি। তবে বিক্রি কম।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন