বিজ্ঞাপন

গত বছরের এপ্রিল, মে মাসে ভারতে বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। ৭ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে তা ছিল ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। তখন লকডাউনের ধাক্কায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি। সিএমআইইর দাবি, এবারও বেকারত্ব বাড়ছে রাজ্যে রাজ্যে লকডাউন ও বিধিনিষেধের জন্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কাজ খোঁজাই বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনীতি এই মুহূর্তে বড়সংখ্যক মানুষকে চাকরি দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ায় গত বছর লকডাউনের আগে থেকেই বেকারত্ব বাড়ছিল। ফলে করোনা মোকাবিলায় পুরো দেশ ঘরবন্দী হতেই বেকারত্বের হার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে আর্থিক কর্মকাণ্ড শুরু হলে বেকারত্বের হার কমতে শুরু করে বটে, কিন্তু কর্মসংস্থানের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়েই ছিল। কাজকর্ম শুরু হলেও নিয়োগে ধারাবাহিক উন্নতি তেমন একটা চোখে পড়েনি।

মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা না দিলে এবং প্রতিষেধক প্রয়োগের সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাকে শুরুতেই শক্ত হাতে থামানো গেলে ভয় কাটত বলে মনে করছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট মহল। তাঁদের মতে, উৎপাদন এবং পরিষেবা বৃদ্ধির হাত ধরে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো নিশ্চিত হলে নিয়োগও বাড়ত। কিন্তু সিএমআইই তথ্য বলছে, এপ্রিলে তা তো হয়নি, বরং কর্মী আরও কমেছে। এমনকি কাজ খুঁজতেও বেরিয়েছেন অনেক কম মানুষ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যে রাজ্যে বিধিনিষেধ, লকডাউন জুড়ে দিলে ক্ষয়ক্ষতি দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের তুলনায় খুব কম কিছু নয়। সংক্রমণের হার ভারতে কিছুটা কমে এলেও কয়েক দিন ধরে মৃত্যু চার হাজারের ওপরে বা আশপাশে থাকছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন, খুচরা বিক্রি—সব কমে যাবে তা ধারণাতেই ছিল, কিন্তু তা আর কত দিন, সেটাই প্রশ্ন সব মহলের।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা। তবে লকডাউন উঠে গেলে আবারও অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে ক্রেডিট সুসি। তাতে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন