ভারতে হুয়াওয়ের কার্যালয়ে তল্লাশি

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে
ফাইল ছবি: রয়টার্স

বেইজিং বলেছে, গত সপ্তাহে অ্যাপ নিষিদ্ধ করাসহ চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সে ব্যাপারে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বেইজিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাও ফেং বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সে দেশে চীনা কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে চীনা কোম্পানিগুলোর আইনসিদ্ধ অধিকার ও স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি গত সপ্তাহে সিএনএন বিজনেসকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারত ৫৪টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। এর কয়েক দিন পর চীনা কর্তৃপক্ষ এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সিএনএন বলেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ অ্যাপগুলোর মধ্যে অনেকগুলো টেনসেন্ট, আলিবাবা ও নেটইজির মতো প্রযুক্তি কোম্পানির মালিকানাধীন।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে বলেছে, ভারতের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাদের কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা হুয়াওয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে হুয়াওয়ে বলেছে, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, ভারতে আমাদের সব কার্যক্রম আইন ও প্রবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে চলছে। এ ছাড়া আমরা ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

এ পরিদর্শন নিয়ে হুয়াওয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে রয়টার্স অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের কর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার নয়াদিল্লি, গুরুগ্রাম ও বেঙ্গালুরুতে হুয়াওয়ের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা হুয়াওয়ের আর্থিক নথি, হিসাব বই, কোম্পানির রেকর্ড, ভারতের ব্যবসা ও বিদেশি লেনদেনের কাগজপত্র খতিয়ে দেখেছেন। শুধু তা–ই নয়, কার্যালয় থেকে কিছু নথি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারত এই প্রথম চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে, বিষয়টি তেমন নয়। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে গলওয়ান সীমান্তে ভারত ও চীনা সৈন্যদের হাতাহাতির ঘটনার পর ভারতে যে প্রবল জাতীয়তাবাদী জোয়ার ওঠে, এর জেরে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটিকসহ ২০০টির বেশি অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ভারত, যার বেশির ভাগই ছিল চীনা।
শুধু অ্যাপ নিষিদ্ধ করা নয়, সে সময় চীনা পণ্য ও পরিষেবা বর্জনের ডাক উঠেছিল ভারতে। চীনের প্রযুক্তিশিল্পের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।