বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারের মূল প্রবন্ধে এ কথা বলা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক সায়েমা হক। বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না, গৃহস্থালির কাজ, বাজার সদাই করা, সন্তানদের যত্ন—এসব কাজ করে থাকেন নারীরা। কিন্তু তাঁরা মজুরি পান না। এগুলো নারীর অদৃশ্য শ্রম।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীরা দৈনিক ৫ দশমিক ৯৩ ঘণ্টা মজুরিবিহীন গৃহস্থালি কাজ করেন। অন্যদিকে একই বয়সী পুরুষেরা গড়ে ১ দশমিক ৪৯ ঘণ্টা কাজ করেন। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীরা মজুরিহীন অদৃশ্য কাজ করেন ৫ দশমিক ৮৭ ঘণ্টা। একই বয়সী পুরুষেরা করেন মাত্র ১ দশমিক ৮৭ ঘণ্টা। সরকারি বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত ব্যবহার করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, মজুরিহীন অদৃশ্য কাজের চাপ কমাতে পারলে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, নারীর অদৃশ্য শ্রমে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীরা ঘরে যেসব কাজ করেন, পুরুষেরাও তা পারেন। অর্থনীতিতে নারীর এসব কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। নারীর অদৃশ্য শ্রমে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়লে কর্মজীবী নারীর ওপর কাজের চাপ কমবে।

নারীর মজুরিহীন অদৃশ্য শ্রমকে ‘সাংস্কৃতিকভাবে জট পাকানো’ বিষয় বলে মনে করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, শ্রমশক্তির বিশাল জনগোষ্ঠী অংশ বসে আছে। তাদের স্বীকৃতি দেওয়া যাচ্ছে না, এটি সত্য। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তখন আমরা শুধু কেক-স্যান্ডউইচ খাব, তা নয়। সার্বিকভাবে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে নারীর মজুরিহীন অদৃশ্য কাজের অবদানের স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি বলেন, নারীর অদৃশ্য অবদানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সামাজিক আন্দোলন দরকার।

এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মজুরিবিহীন নারীর অদৃশ্য কাজের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ, যা যোগ করলে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। নারীর অদৃশ্য কাজের মজুরি দেওয়া হলে নারীর আয় আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুসলিমা মুন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বেবী রানী কর্মকার প্রমুখ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন