বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোন বিবেচনায় নতুন নির্দেশনা জারি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, আগে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৮ হাজার পয়েন্ট ওঠা পর্যন্ত মার্জিন-ঋণ ১: দশমিক ৮০ করার কথা বলা হয়েছিল। এতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছিল। শর্ত শিথিল করে তাই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক নিম্নমুখী ধারার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্জিন ঋণের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শর্ত অনুসারে, যেসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত ৪০ বা তার কম, সেসব কোম্পানির শেয়ারেই এমন ঋণ দেওয়া যাবে।

বিএসইসি এর আগে গত ১৩ আগস্ট এক নির্দেশনায় বলেছিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স অবস্থান ৮ হাজার পয়েন্টে ওঠা পর্যন্ত ১: দশমিক ৮০ অনুপাতে মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে। নতুন নির্দেশনায় সূচকের সীমাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ সূচক যত বেশিই থাকুক না কেন, ঋণসীমা ১: .৮-ই থাকবে।

যোগাযোগ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এটা যে খুব আহামরি কিছু হয়েছে, তা নয়। তবে আগের নির্দেশনায় অস্পষ্টতা ছিল। এটা এখন দূর হয়েছে। সেদিক থেকে নির্দেশনাটি ইতিবাচক।

একই সুরে কথা বলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছাইদুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও মূল্যসূচকের অবস্থানের সঙ্গে মার্জিন রুলের সম্পর্ক টানা হয় না। তবে বিএসইসি নতুন নির্দেশনা দেওয়ার ফলে আগের নির্দেশনার অস্পষ্টতা কেটে গেছে।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পরপরই ব্যাপক হারে শেয়ারের দরপতন শুরু হয়। সূচক বেশ নিচে নেমে যায়। চলতি মাসে ডিএসইএক্স সূচকটি আর ৭ হাজার পয়েন্টে ওঠেনি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে খায়রুল হোসেন দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পরে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এর পর থেকে শেয়ারবাজারে নতুন গতির সঞ্চার হয়। মূলসূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমে গত বছরের ৩০ জুন ৩ হাজার ৯৮৯ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। নতুন চেয়ারম্যান আসার পর তা একটু একটু করে বেড়ে এ বছরের ১০ অক্টোবর ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে উঠে আসে। এরপর আবার নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। আজ সূচক ১১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে ওঠে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন