সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেন সীমান্তের মাঝে আজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগর অবস্থিত। এর মধ্যে কৃষ্ণ সাগরে গভীর, আর আজভ সাগরে অগভীর সমুদ্রবন্দর রয়েছে। তবে পণ্য রপ্তানিতে আজভ সাগরের বন্দরগুলোই বেশি ব্যবহার করে ইউক্রেন। রুশ অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের অন্যতম ব্যস্ত এই সমুদ্রপথটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

ইউরোপের একজন শস্য ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা আগে চলমান সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত আজভ ও কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো খবর পাননি তাঁরা। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, এভাবে চলত থাকলে পরবর্তী সময়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ, বন্দরে জাহাজে পণ্য বোঝাই না করা গেলে ক্রেতাদের কাছে তা ঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।

আজভ সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে তুরস্ক, ইতালি, সাইপ্রাস, মিসর ও লেবাননের মতো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গম, বার্লি, ভুট্টা ইত্যাদি শস্য আমদানি করে। তাই আজভ সাগরে জাহাজ আটকে থাকলে আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে বাধ্য হবে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যৌথভাবে বিশ্বের ২৯ শতাংশ গম, ১৯ শতাংশ ভুট্টা ও ৮০ শতাংশ সূর্যমুখী তেল রপ্তানি করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামায় ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী শস্য পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে গমের দাম বেড়ে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

অবশ্য আজভ সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ হলেও কৃষ্ণ সাগরে নিজেদের বন্দরগুলোর জন্য নেভিগেশন সুবিধা উন্মুক্ত রেখেছে রাশিয়া। সিএনএন জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম গম সরবরাহকারী রাশিয়া গম রপ্তানির জন্য সাধারণত কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো ব্যবহার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ককে রাশিয়ার জাহাজের জন্য বসফরাস এবং দারদানেলিস প্রণালি বন্ধ করতে অনুরোধ জানিয়েছে ইউক্রেন। তবে তুরস্ক এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন