রোজার পণ্যের আমদানি বেড়েছে

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে রোজার পণ্য বোঝাই করা হচ্ছে ট্রাকে। এসব পণ্য নেওয়া হবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে রোজার পণ্য বোঝাই করা হচ্ছে ট্রাকে। এসব পণ্য নেওয়া হবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো

পবিত্র রমজান সামনে রেখে এবার দেশে ছোলা, মসুর ও মটর ডাল এবং চিনি ও ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। প্রধান পাইকারি মোকাম চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে গত বছরের চেয়ে কম দামে।
পণ্যভেদে এবার আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আবার পাইকারি দামও কেজিপ্রতি ১ থেকে ২১ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে রোজার পণ্যের আমদানি ও বিক্রি সম্পর্কে এমনটাই জানা গেছে।
আমদানি তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে গত সোমবার ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৬ টন; যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৮ হাজার টন। এবারে প্রথম চার মাসে মটর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। এই পরিমাণ গত বছর ছিল প্রায় ৭৫ হাজার টন। এবারে ছোলা আনা হয়েছে প্রায় ১ লাখ টন, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৭৫ হাজার টন।
সরেজমিনে খাতুনগঞ্জে গিয়ে জানা যায়, পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমদানিকারকদের কাছ থেকে সাড়ে ৬৪ থেকে সাড়ে ৬৬ টাকা কেজি দরে ছোলা কিনে এনে ৭৩-৭৪ টাকায় বিক্রি করছেন। গত বছর খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছিল ৭৪-৭৫ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মানভেদে প্রতিকেজি মসুর ডাল ৬২ থেকে ৭০ টাকা এবং মটর ডাল ২৯ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন; যা গত বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ৮০ থেকে ৮৩ টাকা ও ৪১-৪২ টাকা।

.
.

খাতুনগঞ্জের বিএসএম গ্রুপ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা দুই জাহাজ থেকে ৪৩ হাজার ৩৫০ টন ছোলা খালাস শুরু করেছে। চাহিদার কারণে জাহাজ থেকে খালাস শেষ হওয়ার আগেই ৪০ শতাংশ ছোলা বিক্রি হয়ে গেছে। খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেটের বিএসএম সেন্টারে নিজ কার্যালয়ে বসে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রোজার সময় ছোলার চাহিদা থাকে বেশি। সে জন্য জাহাজ থেকে খালাস করা অবস্থায়ই ১৭ হাজার ৪৯৬ টন ছোলা বিক্রি হয়ে গেছে। যাঁরা কিনেছেন তাঁরা সরাসরি ঘাট বা গুদাম থেকেই এসব ছোলা সংগ্রহ করে নিচ্ছেন।
দেশে রোজার মাসে ৭০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে বলে মনে করা হয়। সে অনুযায়ী শুধু বিএসএম গ্রুপের আমদানি করা দুই জাহাজ ছোলায় সারা দেশে রোজার ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
খাতুনগঞ্জের সুমন ট্রেডিংয়ের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সঞ্জয় দেব খোকন জানান, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসে ছোলা কিনে নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন বলেন, গত রোজার চেয়ে এবারে মসুর ও মটর ডালের দাম কম। এখন মটর ডাল ২৯ থেকে ৩০ টাকা, মসুর ডাল মানভেদে ৬২ থেকে ৭০ টাকা এবং ছোলা ৭২ থেকে ৭৪ টাকায় বেচাকেনা চলছে।
রোজায় বাড়তি চাহিদাসম্পন্ন আরও দুই নিত্যপণ্য চিনি ও ভোজ্যতেলের আমদানি বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এস আলম, মেঘনা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চার জাহাজে দেড় লাখ টন অপরিশোধিত চিনি এনেছে। আর চলতি মাসে আট জাহাজে ৯২ হাজার টন ভোজ্যতেল খালাসের পর এখন আবার তিন জাহাজে এসেছে আরও ২৪ হাজার টন। এ দুটি পণ্য কারখানায় পরিশোধন করে বাজারে ছাড়া হবে।
খাতুনগঞ্জের বাদশা মার্কেটের আর এম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার শাহেদ উল আলম প্রথম আলোকে জানান, এবারে চিনি ও তেলের দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কম। প্রতিকেজি চিনি এখন সাড়ে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৬৬ টাকা। বর্তমানে সয়াবিনের দাম কেজিপ্রতি ৭৭ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত বছর ছিল প্রায় ৯৯ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকায় দেশেও এবারের রোজায় পণ্য দুটির দাম কম থাকবে বলে আভাস দেন তিনি।
একই মার্কেটের দোতলায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রাম চেম্বার ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম। নিজের ব্যবসা ও সাংগঠনিক প্রয়োজনে নিত্যপণ্যের খোঁজখবর রাখতে হয় তাঁকে। সে জন্য রোজার পণ্যের সরবরাহ ও দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে এবার রোজায় বেশির ভাগ নিত্যপণ্য ক্রেতারা কম দামে কিনতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকায় এবং চাহিদা অনুযায়ী আমদানি হওয়ায় এর সুফল মিলবে।