default-image

শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও হোক আর সেকেন্ডারি বাজার হোক, শেয়ার কিনতে হলে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব আপনার লাগবেই। যেমন ব্যাংকে টাকা রাখতে ব্যাংক হিসাব খুলতে হয়, শেয়ারবাজারেও তেমন। আগে বিও হিসাব খুলতে হবে, তারপর শেয়ার কেনাবেচা। ব্যাংক হিসাব খুলতে যেমন আপনি আপনার পছন্দের ব্যাংক বেছে নেন, তেমনি শেয়ারবাজারে বিও হিসাব খোলার জন্য আছে প্রায় ৪০০ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক নামে পরিচিত। ব্রোকারেজ হাউসের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকেও বিও হিসাব খোলার সুযোগ রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শাখা রয়েছে। রাজধানীর বাইরে দেশের বড় বড় শহরেও রয়েছে শাখা। খুব শিগগির ঘরে বসে বিও হিসাব খোলার সুযোগটি চালু হতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে।

প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের আলাদা ফরম রয়েছে বিও হিসাবের জন্য। ফরম আলাদা হলেও তথ্যের চাহিদা প্রায় একই। শেয়ারবাজারে বিও হিসাব খুলতে হাতেগোনা কিছু নথি লাগে। তার মধ্যে রয়েছে যাঁর নামে বিও হিসাব খোলা হবে তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর ও হিসাবের ব্যাংক চেকের একটি ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনের ফটোকপি ও হিসাবধারীর ২ কপি ছবি। এ ছাড়া লাগবে নমিনির এক কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএনের ফটোকপি।

বিজ্ঞাপন

ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক ভেদে বিও হিসাব খোলার খরচ এক হাজার টাকার মধ্যে। তবে বিও হিসাব খুলে আপনি যদি শেয়ার কেনাবেচা করতে চান, তাহলে আপনাকে সেই অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, আপনি কোনো কোম্পানির আইপিও শেয়ারে আবেদনের জন্য বিও হিসাব খুলেছেন, তাহলে ওই কোম্পানির আইপিওর এক লট শেয়ার কিনতে যে অর্থ লাগবে, তা আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। আবার আপনি যদি সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে যে শেয়ার যতটা কিনতে চান, সেই অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হবে। তবে আপনি চাইলেই ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকে খুব বড় অঙ্কের অর্থ নগদে জমা দিতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী, একটি ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদে গ্রহণ করতে পারে। এর বেশি কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সেই অর্থ জমা দিতে হয়।

বিও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে আপনার মুঠোফোন ও ই-মেইল ঠিকানাটি যথাযথভাবে দেওয়া ভালো। কারণ, তাতে আপনারই লাভ। আপনার বিও হিসাবে কোনো শেয়ার কেনাবেচা হলেই তাৎক্ষণিকভাবে আপনার মুঠোফোনে বার্তা যাবে। যদি আপনি মুঠোফোন নম্বরটি ঠিকঠাকমতো না দেন, তাহলে সেই বার্তাটি পাবেন না। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ব্রোকারেজ হাউসের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে মালিকদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সেই ব্রোকারেজ হাউসের অনেক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে মুঠোফোন নম্বরটি ভুল থাকায় তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি। তাই আপনার বিও হিসাবের নিরাপত্তায় আপনাকেই সবার আগে সতর্ক হতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন