সায়েদাবাদে আরেকটি পানি শোধনাগার হচ্ছে
রাজধানীবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হচ্ছে। শোধনাগারটির এই পর্যায়ের কাজ শেষ হলে রাজধানীতে প্রতিদিন আরও ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই শোধনাগারের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক)। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। ঢাকা ওয়াসা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রকল্পটি সম্পর্কে সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২২০ কোটি লিটার। এর ৭৮ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। ২০৩৫ সালে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে দৈনিক ৬০০ কোটি লিটার। ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি উত্তোলন করায় প্রতিবছর পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির অনুপাত ৩০: ৭০ করা। এ জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পসহ গতকালের একনেকে ৭ হাজার ২১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৩ হাজার ১১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ১০৪ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
সভার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন পরিচালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণে এ পর্যন্ত কতটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে মোট কত টাকা খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ১৬৪ কোটি টাকার টাঙ্গাইলে বিসিক শিল্পপার্ক নির্মাণ; ৬৩ কোটি টাকার বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ; ৩০১ কোটি টাকার বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন কুর্নিবাড়ী হতে চন্দনবাইশা পর্যন্ত যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণকাজসহ বিকল্প বাঁধ নির্মাণ; ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প; ৪১ কোটি টাকার মেঘনা সেতুর স্কাউয়ার প্রোটেকশন এবং মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ, ২০০ কোটি টাকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাসমূহ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প।