সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ধান কিনে অবৈধ মজুত করতে পারবেন না। কে কতটুকু ধান কিনছেন, কোন মিল মালিকের কাছে বিক্রি করছেন, তা খাদ্য বিভাগকে জানাতে হবে। খাদ্য কর্মকর্তাদের এসব তথ্য নিয়মিত অধিদপ্তরে প্রেরণ করত হবে। কেউ অবৈধভাবে মজুত করছে কিনা, তা কঠোর নজরদারিতে থাকবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ সারা দেশে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও চাল সংগ্রহ হবে আগামী ৭ মে থেকে। ৭ থেকে ১৬ মের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মিল মালিকদের চুক্তিবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনোক্রমেই চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় বাড়ানো হবে না।

সাধান মজুমদার বলেন, সংগ্রহ অভিযান সফল করতে একটি সুনিদির্ষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। সংগ্রহ মৌসুমের শেষের দিকে তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনা মোতাবেক সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন।

এ সময় ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ , রংপুর বিভাগের দিনাজপুর,সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশাল বিভাগের বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ হতে জেলার জনপ্রতিনিধি,জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, মিলমালিক এবং কৃষক প্রতিনিধিরা অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।

খাদ্যমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিকভাবে নির্দেশনা মোতাবেক ধান সংগ্রহের মাধ্যমে মজুত বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। গুদামে ধান দেওয়ার সময় কৃষকেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্যও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি ধান এবং চালের কোয়ালিটির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানান।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. মজিবুর রহমান, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পরিচালক (সংগ্রহ) মো. রায়হানুল কবীর বক্তব্য দেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারা দেশে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান, মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১১ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩৯ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

মন্তব্য করুন