বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ পটভূমিতে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস। ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউপিইউ প্রতিবছরের ৯ অক্টোবরকে ডাক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে স্মারক ও নতুন ডাকটিকিট প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৬৯ সালে টোকিওতে ইউপিইউর কংগ্রেস থেকে ডাক দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইউপিইউ জানিয়েছে, বিশ্ব ডাক দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবনে এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ডাকের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বৈশ্বিকভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।

নির্ভরযোগ্যতা, পরিসর, প্রাসঙ্গিকতা, সহনশীলতা—এই চার সূচকের ওপর ভিত্তি করে ডাকব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিবছর র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে ইউপিইউ। সংস্থাটির ডাকব্যবস্থা উন্নয়ন প্রতিবেদনে চার বছর ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবনতি হচ্ছে।

২০১৬ সালে ১৭০টি দেশের মধ্যে ৩৯ দশমিক ৪৮ স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৮তম। ২০১৮ সালে তা নেমে দাঁড়ায় ৮৪তম অবস্থানে (৩৫ দশমিক ৫৪ স্কোর), ২০১৯ সালে ১১৭তম, ২০২০ সালে ১২৮তম এবং চলতি বছর ১০ দশমিক শূন্য ২ পেয়ে ১৬৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ১৪৩তম অবস্থানে।

২০১৭ সালে ইউপিইউ বার্ষিক কৌশলগত পুনর্মূল্যায়ন প্রতিবেদন করে। ইউপিইউর ডাকব্যবস্থা উন্নয়ন প্রতিবেদনে গত চার বছরই সুইজারল্যান্ড শতভাগ স্কোর পেয়ে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে।

২০১৮ সালের প্রতিবেদনে ইউপিইউ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের ডাক বিভাগ ‘ভিশন ২০২১’–কে সামনে রেখে কাজ করছে। মোবাইল মানি অর্ডার, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড পরিষেবার মতো ডিজিটাল পরিষেবার দিকগুলো সেখানে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো যেভাবে ডাকসেবার উন্নয়ন করে, সেভাবে এখানে হয় না। সেবার পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, সেসব নিয়ে ভাবতে হয়। এখানে কোনো কাজের কথা বলা হলেই বলা হয় পরে করা হবে। এখনই শুরু করতে হবে, এই মানসিকতা নেই।’ এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে ডাকব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক এই মহাপরিচালক মনে করেন, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে ডাকসেবা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

তবে দেশের ডাকব্যবস্থার ধারাবাহিক অবনতির বিষয়ে ডাক বিভাগের বর্তমান মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে চিঠি লেনদেনসহ অন্যান্য সেবা স্থবির হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, ডাক বিভাগের ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস), স্পিড পোস্ট, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড ইত্যাদি সেবা চালু হয়েছে। একে একে সব সেবার পরিধি বাড়ানো হবে, সেবাগ্রহীতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন