বিদ্যুৎ
ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তির দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। বিদ্যুতের পরিমাণ ৪০ মেগাওয়াট। এ বিদ্যুৎ আমদানি হবে ভারতের ওপর দিয়ে। অর্থাৎ ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে নেপালের বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে।

এ নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চললেও আজ রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ জন্য ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি করতে হবে এবং শুল্কহার বা ইউনিট মূল্যও নির্ধারণ করতে হবে। শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয় ঠিক করে বিদ্যুৎ বিভাগকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে একটি প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে বৈঠক থেকে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রকল্প, উৎপাদন খাতে আঞ্চলিক বিনিয়োগ, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে পরামর্শ প্রদানের জন্য মন্ত্রিসভার যে কমিটি’ করা হয়েছে সেটির প্রধান অর্থমন্ত্রী। তাই তাঁর সভাপতিত্বেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ; বিদ্যুৎ–সচিব মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেপাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা তুলনামূলক সস্তা। নেপাল থেকে এ বিদ্যুৎ আমদানির জন্য গত মে মাসে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয়, নেপালের এক প্রকল্প থেকে ২৪ মেগাওয়াট এবং আরেক প্রকল্প থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ। ভারত থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে যে বিদ্যুৎ আমদানি করছে, প্রতি ইউনিটের দাম ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকা। নেপাল থেকে আনা বিদ্যুতের দামও তার কাছাকাছি থাকবে বলে সূত্রগুলো জানায়।

বৈঠক সূত্র জানায়, নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে কত হতে পারে, এ বিষয়ে বিদ্যুৎ–সচিবের কাছে জানতে চান অর্থমন্ত্রী। জবাবে তিনি জানান, নেপাল থেকে আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাত টাকার কাছাকাছিই থাকবে।

বৈঠকের পর বিদ্যুৎ–সচিব মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে, প্রতি ইউনিটের দামও ঠিক করতে হবে। এ চুক্তি করতে গেলে পরের ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতামত এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন। আমরা এখন প্রক্রিয়াগুলো শেষ করব।’

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়েছে, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হলে দুই দিক থেকেই লাভবান হবে বাংলাদেশ। যেমন শীতের যে সময়ে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, তখন নেপালে থাকে শুষ্ক মৌসুম। দেশটিতে তখন বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা থাকে। ওই সময় নেপাল বরং বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

গত জুন মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল ভারত সফর করেন। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নেপালের। ওই চুক্তি অনুযায়ী নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসবে ভারতের সঞ্চালন লাইন দিয়েই।

এদিকে গত মে মাসে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) এবং ভারতের বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও বিদ্যুতের দাম নিয়ে সমঝোতা স্মারক হয়েছে। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সঞ্চালন মাশুল ও সেবা মাশুল পরিশোধ করতে হবে ভারতকে।

আজ অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে জানতে চাইলে জ্বালানিবিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতীয় নীতি হচ্ছে, তার দেশের ওপর দিয়ে কোনো একটি দেশ অন্য কোনো দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে পারবে না। ফলে ভারত যত দিন না তার নীতির বদল করেছে, তত দিন নেপাল থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, নীতির বদলটা হয়েছে কি না। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শুধু আশ্বাস দিলে কাজ হবে না। দরকার কাগজে-কলমে চুক্তির বদল। সেটি হলো কি না, আমরা এখনো জানি না।’