ইউক্রেন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গম আমদানি শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৩টি জাহাজে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। এই তিন জাহাজের গম এখনো খালাস হচ্ছে। এসব জাহাজের দুটিতে এস আলম এবং একটিতে বসুন্ধরা গ্রুপ গম আমদানি করেছে।

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘ ও তুরস্কের সহায়তায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে খাদ্যসামগ্রীবাহী জাহাজ চলাচলবিষয়ক চুক্তি হয়। চুক্তির পর ৭ আগস্ট ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানি শুরু হয়। চুক্তির পর এ পর্যন্ত ৮০ লাখ টন গম রপ্তানি করেছে ইউক্রেন।

এই চুক্তির মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ শেষের আগেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা চলছিল। তার আগেই গত শনিবার কৃষ্ণসাগরে ক্রিমিয়ার উপকূলে রাশিয়ার নৌবহর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। এএফপি ও গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, হামলার পর চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় রাশিয়া।

বেসরকারি খাতের আমদানিকারকেরা জানান, ইউক্রেন থেকে বেসরকারি খাতে কয়েক লাখ টন গম আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব গম দেশে আসার কথা। রাশিয়া চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় গম আমদানি করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বন্দরে পৌঁছানো তিনটি জাহাজ ছাড়া ইউক্রেনের বন্দর থেকে বাংলাদেশমুখী গমের জাহাজ সমুদ্রে আছে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।

ইউক্রেন থেকে এস আলম গ্রুপের আমদানি করা গমের জাহাজ এসএসআই প্রাইডের স্থানীয় প্রতিনিধি প্যাসিফিক ওশান লাইনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ইউক্রেন থেকে গমবাহী জাহাজ আসার খবর তাঁর জানা নেই।
গম আমদানির বড় উৎস ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন। রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি হতো দেশ দুটি থেকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট আমদানি হওয়া গমের ৪৪ শতাংশ আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধ শুরুর পর দেশ দুটির বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ভারত ১৪ মে গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর নতুন করে সেই বাজার আর খোলেনি। অবশ্য পুরোনো ঋণপত্রের বিপরীতে এখনো গমের কিছু চালান আসছে ভারত থেকে।

এদিকে রাশিয়া থেকে গম আমদানিতে বাধা না থাকলেও এখনো বেসরকারি খাতে গম আমদানি হয়নি। তবে চট্টগ্রামের একটি গ্রুপ দুটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন গম আমদানির ঋণপত্র খুলেছে। এখনো সেই গম বন্দরে পৌঁছেনি। অবশ্য সরকারি খাতে পাঁচ লাখ টন গম আমদানি শুরু হয়েছে।
উৎপাদন ও আমদানির তথ্যানুযায়ী, দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টন। এ চাহিদার বড় অংশই আমদানি করে মেটানো হয়। সর্বশেষ গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬২ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে।