ঈদুল আজহায় ফ্রিজের চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়

ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তাহসিনুল হকছবি: ওয়ালটনের সৌজন্যে
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ‘স্মার্ট’ পণ্যের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই প্রযুক্তি। তাই স্মার্টফোন বা স্মার্টটিভির পাশাপাশি এখন ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে স্মার্ট রেফ্রিজারেটরও। শুধু খাবার সংরক্ষণ নয়, বরং স্বাস্থ্য, সময় বাঁচানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্মার্ট রেফ্রিজারেটর দিচ্ছে অভিনব সব সমাধান। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্মার্ট ফ্রিজের কার্যকারিতা, বাজারের চাহিদা ও সম্ভাবনা এবং নতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম আলো ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তাহসিনুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী

প্রথম আলো: ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্রিজের বাজারের আকার ও চাহিদা কতটা বৃদ্ধি পায়? এবার ফ্রিজ বিক্রির প্রবণতা কেমন দেখছেন?

মো. তাহসিনুল হক: বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ফ্রিজ–শিল্পের অন্যতম বড় বিক্রয় মৌসুম। কোরবানির মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে ঈদ মৌসুমে বাজারে ফ্রিজের চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। চলতি বছরও আমরা ইতিবাচক প্রবণতা দেখছি। ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় সাইজের ফ্রিজ এবং ডিপ ফ্রিজের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এর পাশাপাশি এবারের ঈদ উপলক্ষে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই-নির্ভর) প্রিমিয়াম মডেলের ফ্রিজ ক্রেতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

প্রথম আলো: ডিপ, বড় ক্যাপাসিটির মডেল নাকি স্মার্ট ও এনার্জি-সেভিং—বর্তমান বাজারে কোন ধরনের ফ্রিজের চাহিদা বেশি? এক্ষেত্রে গ্রাহকের পছন্দে কী পরিবর্তন এসেছে?

মো. তাহসিনুল হক: বর্তমানে বড় ও মাঝারি ধারণক্ষমতার ফ্রিজ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির মডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি স্মার্ট ফিচারসমৃদ্ধ ফ্রিজের প্রতিও গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগে অনেকেই মূলত দাম বিবেচনা করে ফ্রিজ কিনতেন। এখন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, বিদ্যুৎ খরচ, খাদ্য সংরক্ষণের মান এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার সময় ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। ইউরোপিয়ান ডিজাইন, আলাদা ফুড চেম্বার এবং ভার্টিক্যাল মডেলের হওয়ায় আধুনিক পরিবারের কাছে ওয়ালটনের ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে অনেক গ্রাহক বড় ফ্রিজের ফ্রিজার কম্পার্টমেন্টের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট, দ্রুত কুলিং প্রযুক্তি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সুবিধা এবং স্মার্ট কন্ট্রোল ফিচারও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের ভোক্তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিবান্ধব।

প্রথম আলো: বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ওয়ালটন কী ধরনের অফার, ইএমআই বা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে?

মো. তাহসিনুল হক: ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, ক্যাশব্যাক সুবিধা, সহজ কিস্তি এবং বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ওয়ালটন। গ্রাহকদের জন্য শূন্য বা স্বল্প ডাউন পেমেন্টে কিস্তি সুবিধা, নির্দিষ্ট মেয়াদের ইএমআই এবং বিভিন্ন উপহার ও মূল্যছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’। এর আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা বা পরিবেশক শোরুম থেকে ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি সিলিং ফ্যান কিনে ক্রেতারা মিলিয়নিয়ার হওয়ার অর্থাৎ নগদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এই সিজনে ঈদের আগে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন চারজন ক্রেতা। এ ছাড়া লাখ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার, আর্জেন্টিনা দলের ফ্রি ফ্যান জার্সিসহ নিশ্চিত পুরস্কার পাচ্ছেন অসংখ্য ক্রেতা। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিক্রি বৃদ্ধি নয়, বরং গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির পণ্যকে আরও সহজলভ্য করে তোলা।

প্রথম আলো: ওয়ালটন স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিজ শিল্পকে কতটা এগিয়ে নিয়েছে? আগামী কয়েক বছরে এই বাজারের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?

মো. তাহসিনুল হক: স্থানীয় উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের রেফ্রিজারেটর শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশে উন্নত প্রযুক্তির ফ্রিজ উৎপাদনের ফলে আমদানিনির্ভরতা কমেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি ফ্রিজ রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করছি, যাতে বিশ্বমানের প্রযুক্তি দেশের গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া যায়। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের ফ্রিজ বাজারে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুতের আওতা বৃদ্ধি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে এনার্জি-সাশ্রয়ী ও স্মার্ট রেফ্রিজারেটরের চাহিদা দ্রুত বাড়বে।

প্রথম আলো: ঈদ মৌসুমে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজের বিক্রি ও চাহিদায় কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?

মো. তাহসিনুল হক: গত কয়েক বছরে গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বিক্রির ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে। বিদ্যুৎ সুবিধার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় আয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে গ্রামাঞ্চলে আধুনিক ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার সময় এই প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কোরবানির মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে গ্রামীণ এলাকাতেও বড় ধারণক্ষমতার ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ওয়ালটনের বিস্তৃত বিক্রয় ও সেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও সহজে আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ ক্রয় ও বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন। আমরা মনে করি, আগামী দিনে গ্রামাঞ্চলই দেশের রেফ্রিজারেটর বাজার সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

প্রথম আলো: বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়ালটন ফ্রিজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়টি কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

মো. তাহসিনুল হক: বর্তমান বিশ্বে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়ালটনও এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ তৈরি করছে। আমাদের অনেক মডেলের ফ্রিজে ‘এমএসও প্লাস’ ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্রিজের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আমরা জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপি সহায়তায় ফ্রিজে পরিবেশের জন্য ‘সিএফসি’, ‘এইচসিএফসি গ্যাস’ ফেইজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। বর্তমানে ওয়ালটন ফ্রিজে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব ‘আর৬০০এ’ রেফ্রিজারেন্ট/গ্যাস ব্যবহার করছি, যা ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর নয়। ওয়ালটনের কিছু আধুনিক মডেলে এআই এবং আইওটিভিত্তিক স্মার্ট কন্ট্রোল প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। পাশাপাশি ওয়ালটন ফ্রিজ বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ এনার্জি রেটিং ফাইভ-স্টার সনদ অর্জন করেছে।

প্রথম আলো: সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণা ও উদ্ভাবনে ওয়ালটন কেমন বিনিয়োগ করছে? স্মার্ট প্রযুক্তি ও ফিচার উদ্ভাবন এবং সংযোজনে ওয়ালটনের সাফল্য কতটুকু?

মো. তাহসিনুল হক: ওয়ালটনের বিনিয়োগের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হচ্ছে পণ্য গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অটোমেশনে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক পার্কে গড়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার। যেখানে কাজ করছেন বাংলাদেশ, কোরিয়া, ইতালি, চীন, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের এক চৌকস টিম। তাঁরা প্রতিনিয়ত বাজার গবেষণার মাধ্যমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অব থিংসের (এআইটি) মতো স্মার্ট প্রযুক্তি ওয়ালটন ফ্রিজে সংযোজন করেছেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘ফ্রেঞ্চ-ডোর ফ্রিজ’ উৎপাদনকারী দেশের মর্যাদা লাভ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রথম ‘এইট-ইন-ওয়ান’ কনভার্টিবল সাইড–বাই–সাইড রেফ্রিজারেটর উৎপাদন ও বাজারজাতকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব ঘটেছে। এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ফ্রিজ উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তর ঘটেছে বাংলাদেশের।

প্রথম আলো: ওয়ালটন ফ্রিজ কোন কোন দিক থেকে অন্য ব্র্যান্ডের চেয়ে আলাদা?

মো. তাহসিনুল হক: দেশের ফ্রিজের বাজারে সর্বোচ্চসংখ্যক ডিজাইন ও মডেল, গুণগতমান, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচার, পণ্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিক থেকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছে ওয়ালটন। আমাদের স্বতন্ত্র বৈশ্বিষ্ট্য হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন টিম। তাঁরা ১২০টি দেশের আবহাওয়া প্যাটার্ন অনুযায়ী ফ্রিজের ডিজাইন তৈরি করছে। অঞ্চলভেদে আমাদের দেশের আবহাওয়ার তারতম্য রয়েছে। সব ধরনের আবহাওয়া উপযোগী করে ওয়ালটন ফ্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। যে কারণে ওয়ালটন ফ্রিজ অনেক বেশি টেকসই হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ বাজারজাত করার পূর্বে ৭০টিরও বেশি কোয়ালিটি কন্ট্রোল টেস্ট পাশ করতে হয়। এ জায়গাতেই আমাদের সফলতা। এ ছাড়া ৫০ লিটার থেকে শুরু করে ৭২০ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার তিন শতাধিক ডিজাইন ও মডেলের ফ্রিজ রয়েছে আমাদের। সব শ্রেণি-পেশার গ্রাহকের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করছি আমরা। মূলত এসব কারণে অন্যান্য ব্র্যান্ডের থেকে আলাদা ওয়ালটন ফ্রিজ। যার প্রেক্ষিতে ওয়ালটন ফ্রিজ টানা বারো বার ‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।

প্রথম আলো: বিক্রয়োত্তর সেবা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে ওয়ালটন কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

মো. তাহসিনুল হক: গ্রাহক সন্তুষ্টিকে আমরা সব সময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। এজন্য ওয়ালটন দেশের সবচেয়ে বড় বিক্রয়োত্তর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। বর্তমানে আইএসও সনদপ্রাপ্ত কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় ওয়ালটন সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ৯০টিরও বেশি সার্ভিস সেন্টার এবং তিন সহস্রাধিক দক্ষ সার্ভিস এক্সাপার্টদের মাধ্যমে গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম সেবা প্রদান করছে। বিক্রয়োত্তর সেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজে যুক্ত করা হয়েছে ‘এআই ডক্টর’ ফিচার। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট এই ফিচার গ্রাহকের বাসায় ব্যবহৃত ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজের কুলিং পারফরমেন্স, সেন্সরসহ অন্যান্য কম্পোনেন্টসে কোনো সমস্যা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ নিজেই সমাধানের চেষ্টা করবে। যদি তা না পারে, সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের বাসার নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টারে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেবে। নোটিফিকেশন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাসায় গিয়ে সমস্যা সমাধান করবে। ফলে গ্রাহক ফ্রিজের কোন অস্বাভাবিকতা বোঝার অনেক আগেই পেয়ে যাবেন প্রয়োজনীয় বিক্রয়োত্তর সেবা। ওয়ালটন ফ্রিজে সাধারণত ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টিসহ কম্প্রেসারের ১২ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও অনলাইন সার্ভিস সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পেয়ে থাকেন। বিভিন্ন সময় আমরা ফ্রি সার্ভিসিং ও ক্লিনিং ক্যাম্পেইনও পরিচালনা করি। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি পণ্য বিক্রি করা নয়; বরং গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা।

প্রথম আলো: আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আপনারা কী ধরনের কৌশল অনুসরণ করছেন?

মো. তাহসিনুল হক: আমরা মূলত প্রযুক্তি, গুণগত মান এবং গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভাবন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। ওয়ালটনের নিজস্ব রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার রয়েছে, যেখানে অত্যন্ত দক্ষ, মেধাবী ও চৌকস দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা শুধু বাংলাদেশেসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া, ভোল্টেজ ওঠানামা এবং ব্যবহারকারীদের অভ্যাস বিবেচনায় রেখে ফ্রিজের ৫০-৫০, আল্ট্রা ডিপ্থসহ অত্যাধুনিক নকশা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন করছেন। এ ছাড়া ফ্রিজ উৎপাদনের পাশাপাশি আমরা কম্প্রেসরসহ ফ্রিজের আনুষঙ্গিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও পার্টসও তৈরি করছি। ফলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে। বর্তমানে ওয়ালটন ফ্রেঞ্চ ডোর, সাইড-বাই-সাইড এবং স্মার্ট ফ্রিজসহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম মডেল উৎপাদন করছে, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। সম্প্রতি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বাজারের জন্য উপযুক্ত করে বিশেষ ডিজাইনে তৈরি বেশ কিছু নতুন মডেলের ফ্রিজ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ ডিজাইনে নতুন মডেলের ফ্রিজ তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।