চট্টগ্রাম চেম্বারে নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসকের চিঠি
চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে প্রশাসক। চট্টগ্রাম চেম্বারে সরকার নিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী গতকাল রোববার নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই চিঠি দেন।
জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর এই চেম্বারে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষ পরিচালক পদ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করলে তাতে সেই নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে গত ১১ ডিসেম্বর ওই রিটের ওপর উচ্চ আদালতের রায়ের নির্বাচনের পথে আইনি বাধা দূর হয়। উচ্চ আদালতের ওই রায়ের ওপর আইনজীবীর মতামত গ্রহণের পর গতকাল নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন বোর্ডকে আহ্বান জানায় প্রশাসক।
গতকাল রোববার নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে প্রশাসক মোহাম্মদ নুরল্লাহ নুরী বলেন, চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ৬টি পদ স্বপদে বহাল রেখে মোট ২৪টি পদে নির্বাচন পরিচালনায় কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন চট্টগ্রাম জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ কাশেম চৌধুরী। এ অবস্থায় চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান প্রশাসক।
চেম্বার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচিত এসব পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন। তবে তফসিল ঘোষণার পর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ—এ দুটি শ্রেণিকে নির্বাচনে না রাখা এবং নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ অংশটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়।
চেম্বার ও আদালত সূত্র জানায়, শুরুতে বিক্ষুব্ধ অংশটি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে বাদ দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে আবেদন অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ওই সংগঠনগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠায়। এরপর মোহাম্মদ বেলাল নামে এক ব্যবসায়ী আদালতে রিট করেন এবং হাইকোর্ট ২২ অক্টোবর রিট শুনানি শেষে ওই দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আপিল করলে ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন এবং সমস্যার সমাধানের জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশে চেম্বারের নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয়জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানায়। এ আদেশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলাল পাল্টা আপিল করেছেন। আপিলের শুনানি এখনো বাকি আছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল।
নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশাসকের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, আমি এখনো চিঠি হাতে পাইনি। নির্বাচন কবে আয়োজন করা হবে, সেটি মন্ত্রণালয়য়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর সব কমিটি গঠিত হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দীর্ঘ এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এবারের নির্বাচন ঘিরে দুটি প্যানেলও ঘোষণা করা হয়েছিল। একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম এবং অন্যটি বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ।