বর্জ্যে মিলছে লাখ ডলার
এক যুগ আগেও ঢেউটিন কারখানার বর্জ্য ছিল ফেলনা। কেউ নিয়ে গেলেই যেন বেঁচে যান উদ্যোক্তারা। সেই ফেলনা বর্জ্যই একসময় কিনে নিতে শুরু করেন কিছু ব্যক্তি। রপ্তানিও শুরু হয় তাঁদের হাত ধরে। আর কয়েক বছর ধরে এই বর্জ্য সরাসরি রপ্তানি করে ডলার আনছেন ইস্পাতশিল্পের উদ্যোক্তারা।
এই বর্জ্য তৈরি হয় মূলত ঢেউটিন তৈরির বড় কারখানাগুলোতে। অপরিশোধিত ইস্পাত প্রক্রিয়াজাত করে ঢেউটিন তৈরির প্রথম ধাপে উৎপন্ন হয় বর্জ্য। লাল রঙের এই বর্জ্যের নাম আয়রন অক্সাইড বা ফেরিক অক্সাইড। এইচআর (হট রোলড) কয়েল পিকলিং ইউনিটে রাসায়নিক দিয়ে পরিশোধনের পর পাতের ওপরে থাকা সব অপ্রয়োজনীয় পদার্থ অপসারণ করা হয়।
অ্যাসিড মিশ্রিত এই অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বা বর্জ্য নেওয়া হয় অ্যাসিড আলাদা করার ইউনিট বা ‘অ্যাসিড রিজেনারেশন প্ল্যান্টে’। সেখানে থাকা অ্যাসিড আবার ব্যবহার উপযোগী করা হয়। বাকি যেসব পদার্থ থাকে, তা প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায় আয়রন অক্সাইড। পাউডারের মতো এই আয়রন অক্সাইড বস্তাবন্দী করে রপ্তানি করা হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইস্পাত কারখানার বর্জ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। চীন, কোরিয়া ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে এই পণ্য।
গত অর্থবছরে রপ্তানি হওয়া এই বর্জ্যের মধ্যে পিএইচপির দুটি কারখানা রপ্তানি করেছে সাড়ে ১২ লাখ কেজি আয়রন অক্সাইড। এতে আয় হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ডলার। কেডিএস গ্রুপের কেওয়াইসিআর কারখানা রপ্তানি করেছে দুই লাখ কেজি। অন্যান্য কারখানাগুলো থেকে আয়রন অক্সাইড কিনে রপ্তানি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান।
পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক আমির হোসেনবলেন, ‘কুমিরার কারখানায় শুরুর দিকে এই বর্জ্য নিয়ে বেকায়দায় ছিলাম। একসময় দেশীয় সরবরাহকারীরা এগুলো কিনে নিতে শুরু করেন। পরে চাহিদা আসতে থাকায় আমরা নিজেরাই রপ্তানি শুরু করি। এখন এই বর্জ্য রপ্তানি করে ডলার মিলছে।’