ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় সোনার দাম কমল ভরিতে ১৫ হাজার টাকা
পৌনে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। তাতে দুবারে সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম আড়াই লাখ টাকার নিচে নেমে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমায় জুয়েলার্স সমিতি। আবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমায়। এক দিনে ভরিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা কমানোর ঘটনা এবারই প্রথম বলে জানালেন জুয়েলার্স সমিতি নেতারা।
দুই দফায় সোনার দাম কমার মূল কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে সোনার দরপতন। আজ নিউইয়র্ক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২০৫ ডলার কমেছে। এতে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬ ডলার।
অবশ্য জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।
নতুন দর অনুযায়ী, আজ বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।
গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম কমে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকায় দাঁড়ায়।
আজ দুই দফায় সোনার দাম কমায় গতকালের চেয়ে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটে ১১ হাজার ৬৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১২ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমেছে ভরি প্রতি ১০ হাজার ২৬৪ টাকা।
দেশের বাজারে চলতি বছরের শুরুতে ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। তারপর অবশ্য দামের উত্থান-পতন হলেও এই পর্যায়ে ওঠেনি।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হচ্ছে, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। এখন দাম কমতে শুরু করেছে।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ধারায় ছেদ টানতে পারে। এমনকি তারা সুদের হার বাড়াতেও পারে—এমন সম্ভাবনা আছে। এতে ডলারে বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সাধারণত ডলারের আকর্ষণ বাড়লে সোনার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। কেননা, সোনায় বিনিয়োগ করে সুদ পাওয়া যায় না।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও দুই দফায় কমিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি। দুই দফায় রুপার দাম ভরিতে কমেছে ৭০০ টাকা। এতে করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। গতকাল রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ৬৫ টাকা ভরি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সোনার দাম নির্ধারণ কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে যেতে পারে। সেটি হলে দেশেও দাম আরও কমবে। তবে বছর শেষে সোনার দামের আউন্স ৬ হাজার ডলারের কাছে চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সোনার দামে অস্থিরতা চলতে থাকায় অনেক দিন ধরেই জুয়েলারি ব্যবসায় খরা চলছে। এক দিনে সোনার দাম ভরিতে ১৫ হাজার টাকা হ্রাস হওয়া ক্রেতাদের জন্য বড় সুযোগ।