ফুটবল বিশ্বকাপের মৌসুম শুরু হওয়ায় বোরহানুল হকের মতো অনেকেই এখন জার্সির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, তাঁদের জার্সি বিক্রি ভালোই জমেছে। রাজধানীর গুলিস্তানের মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান স্পোর্টস হাউসের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. রুবেল জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইতিমধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা তাঁর। 

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দুই দেশের। এ ছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার জার্সির গ্রাহকও কম-বেশি আছে। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন নামীদামি ফুটবল ক্লাবের জার্সি বিক্রি কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

জার্সির পাইকারি বাজারের অধিকাংশই ঢাকার গুলিস্তান এলাকায়। সেখানে দেশে তৈরি জার্সির পাশাপাশি বিক্রি হয় আমদানি করা জার্সিও। ব্যবসায়ীরা জানান, দামের ক্ষেত্রে দেশে তৈরি জার্সি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং আমদানি করা জার্সি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা পর্যায়ে এই দাম আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। এ ছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড়ের বা নিজের নাম লেখাতে ৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। 

গুলিস্তানের একটি পাইকারি বাজারে গত বৃহস্পতিবার জার্সি কিনতে আসেন চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের ‘ক্রীড়াঙ্গন’ দোকানের মালিক মো. শাহজালাল। তিনি জানান, চট্টগ্রামেও পুরোদমে বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তাই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশের জার্সি কিনতে ঢাকায় এসেছেন। 

জার্সির পাইকারি বাজার গুলিস্তানের টুইন টাওয়ার মার্কেটের ‘মশিউর স্পোর্টস’ বিদেশ থেকে জার্সি আমদানি করে। মশিউর স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মো. মশিউর রহমান জানান, দেশে মূলত চীনে তৈরি জার্সিই বেশি আসে। পছন্দের দেশের হোম ও অ্যাওয়ে—এই দুই ধরনের জার্সিরই চাহিদা আছে। এর মধ্যে হোম জার্সি একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

তবে চলমান ডলার–সংকটের কারণে জার্সি আমদানির জন্য ঠিকমতো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছেন না বলে জানান মশিউর রহমান। তিনি বলেন, এলসি খুলতে না পারায় চাহিদা অনুযায়ী জার্সি আমদানি করা যাচ্ছে না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এলসি খুলেও সময়মতো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। 

চলতি বিশ্বকাপ মৌসুমে দেশে তৈরি জার্সির চাহিদা অনেক বেড়েছে বলে জানান গুলিস্তানের এস এস স্পোর্টসের মালিক মো. মিঠু সরকার। 

এদিকে দোকানের পাশাপাশি বিক্রেতারা অনলাইনেও জার্সি বিক্রি করছেন। অনলাইনে জার্সি বিক্রি করা ‘ফাহিম ওয়্যারহাউস বিডি’র মালিক ফাহিম সাজ্জাদ বলেন, অনলাইনে সব ধরনের জার্সির চাহিদাই আছে। এর মধ্যে ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা দামের জার্সির চাহিদা বেশি। প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে ৫০০ টিরও বেশি জার্সি বিক্রির ক্রয়াদেশ পান বলে জানান ফাহিম।