সভায় উপস্থিত চারজন ব্যবসায়ী নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই গ্যাস-সংকট নিয়ে উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। তাঁরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সমস্যাগুলো শুনেছেন। সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দিলেও উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, গ্যাস-সংকট নিরসনে করণীয় ঠিক করতে শিগগিরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হবে। 

সভায় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ব্যবসায়ীদের সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পের প্রসারে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পিত এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন করলে এককভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে সুবিধা পাওয়া যেত। তবে বিচ্ছিন্নভাবে যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপন করায় এ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গাজীপুর-আশুলিয়া-নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপজনিত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। দেশীয় ও আমদানি মিলে এখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে খরচ পড়ছে ২৮ টাকা ৪২ পয়সা। আর প্রতি ইউনিট বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১১ টাকা ৯১ পয়সায়। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘করোনা মহামারি পরিকল্পনামতো আমাদের এগোতে দেয়নি। শিল্পকারখানায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’ 

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান সমস্যা বৈশ্বিক। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ চান শিল্পমালিকেরা। করকাঠামো পুনর্গঠন করলে মূল্য সমন্বয় সহনীয় থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। 

জানতে চাইলে বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে ৬০ শতাংশ কারখানা ঝুঁকিতে রয়েছে। একপর্যায়ে উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, আমরা প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম কত বাড়তি দিতে পারব। আমি বলেছি, ছয় টাকা পর্যন্ত বাড়তি দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে আমাদের।’ 

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান প্রমুখ।