ইলন মাস্কের নানা ধরনের শর্ত না মেনে অনেক কর্মী ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। কোম্পানির এক সাবেক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, ‘সর্বশেষ এই মেইলের পর টুইটারে দুই হাজার বেশি কর্মী থাকবে বলে মনে হয় না।’

তবে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও কর্মীরা কেন টুইটার ছাড়ছেন, বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে সেই কর্মী বলেন, ‘যে লোকটা সারাক্ষণ আমাদের হুমকি দিয়ে চলেছে যে টুইটারে অসাধারণ মানুষ ছাড়া কেউ কাজ করতে পারবে না, তাঁর সঙ্গে আমি কাজ করতে চাই না, যদিও আমি আগে থেকেই সপ্তাহে ৬০-৭০ ঘণ্টা কাজ করছি।’

এর আগের দিন ইলন মাস্ক কর্মীদের ই-মেইল দিয়ে জানান, টুইটারে কাজ করতে হলে তাঁর দেওয়া শর্ত মেনে চলতে হবে। তিনি রীতিমতো এ বিষয়ে কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইলন বলেন, শর্ত পছন্দ না হলে বা মানতে না চাইলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কর্মীরা নির্বিঘ্নে তিন মাসের বেতন নিয়ে কাজ ছাড়তে পারেন। টুইটারের বাইরের দরজা তাঁদের জন্য সব সময় খোলা আছে।

ইলনের কথাবার্তা খুবই সোজাসাপটা, করপোরেট সংস্কৃতির ধার তিনি ধারেন না বললেই চলে। তিনি বলেছেন, টুইটার যেভাবে প্রতিদিন বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাতে ভালো ও বেশি কাজ করা ছাড়া কোম্পানিকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই। তাই টুইটারের কর্মীদের দীর্ঘদিনের আলস্য কাটিয়ে ওঠার নির্দেশ দিয়েছেন ইলন। বলেছেন, পরিশ্রম করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়ে অনলাইনে কর্মীদের একটি ফর্মেও সই করতে বলেছেন টুইটারের নতুন মালিক। শর্তের তালিকা দেওয়া সেই ফর্মে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, হয় সপ্তাহে অন্তত ৪০ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করুন, নয়তো বিদায় নিন টুইটার থেকে। টুইটার কাউকে বাধা দেবে না। বরং কর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা টুইটারের আগামী দিনের সাফল্যের জন্যই নিয়েছেন ধরে নিয়ে তাঁকে সাদরে স্বাগত জানানো হয়।

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলনের হাতে টুইটারের মালিকানা আসার পরই একের পর এক নতুন নিয়মের জন্ম হচ্ছে। ঘন ঘন পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন টুইটারের কর্মীরা। ইতিমধ্যেই টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। ফলে আরও ছাঁটাইয়ের ভয় আছে। এর মধ্যে কর্মীদের ওপর নতুন শর্ত আরোপ করলেন ইলন। তিনি বলেন, টুইটার দিনে ৪০ লাখ ডলার লোকসান গুনছে। তাই পরিবর্তন ছাড়া প্রতিষ্ঠান বাঁচানোর উপায় নেই।