ঈদে নন–ব্র্যান্ডের চেয়ে ব্র্যান্ডের জুতার বিক্রি বেশি

ঈদকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডভেদে জুতা বেচাকেনা গত বছরের চেয়ে ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ঈদ উপলক্ষে জুতা কিনতে এসেছেন ক্রেতারা। গতকাল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডেছবি: মীর হোসেন

ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে জুতা বিক্রিও বাড়ে। তবে জুতার দোকানগুলো জমে ওঠে শেষ দিকে। কারণ, অনেকেই পোশাক কেনার পরে জুতা কেনেন। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে জুতার দোকানগুলোয় সে চিত্রই দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, মূলত রোজার শেষ ১০ দিনে জুতা কেনার চাহিদা বাড়ে। তবে বেশি চাহিদা নারীদের জুতার।

দেশে ২০টির বেশি প্রসিদ্ধ জুতার ব্র্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ব্র্যান্ড হচ্ছে অ্যাপেক্স, বাটা, লোটো, বে, ওরিয়ন ইত্যাদি। সরেজমিনে গিয়ে এসব ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

অধিকাংশ ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে জুতা বেচাকেনা ব্র্যান্ডভেদে গত বছরের চেয়ে ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে বেশ কিছু ব্র্যান্ড এবং নন-ব্র্যান্ডের জুতার দোকান ঘুরে দেখেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। সব মিলিয়ে এলিফ্যান্ট রোডে ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড মিলিয়ে ছোট–বড় ২০০-২৫০টি দোকান রয়েছে। সোমবার সকালে এসব দোকানে অবশ্য ক্রেতার তেমন ভিড় দেখা যায়নি।

■ তুলনামূলকভাবে ব্র্যান্ডের জুতার দোকানগুলোতেই বিক্রি বেশি হচ্ছে। ■ পুরুষের চেয়ে নারীদের জুতার চাহিদা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

এলিফ্যান্ট রোডের বেশির ভাগ নন-ব্র্যান্ড জুতার ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জুতা বেচাকেনা বেশ মন্দা। তাঁদের ভাষ্য, কিছুটা জৌলুশ হারাতে বসেছে এলিফ্যান্ট রোডের জুতার দোকান।

শুধু পুরুষদের জুতা বিক্রি করে এলিফ্যান্ট রোডের আয়শা ফুটওয়্যার। এই দোকানে সব মিলিয়ে ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১৭ লাখ টাকার জুতা তোলা হয়। তবে এখনো ১০ লাখ টাকার জুতা বিক্রি হয়নি বলে জানান দোকানের ব্যবস্থাপক মেরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, একসময় এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোতে ঈদ মৌসুমে দম ফেলার সুযোগ থাকত না। এখন সেই ভিড় নেই।

১৯৭২ সাল থেকে জুতা বিক্রি করছে এলিফ্যান্ট রোডের মেসার্স দীপালি এন্টারপ্রাইজ। এই দোকানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খোকন বলেন, একসময় ঈদে প্রতিদিন এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতো। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্র্যান্ডের জুতার দোকানে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড়। তাদের বেচাকেনাও প্রত্যাশিত বলে কর্মীরা জানান। ইতালিয়ান ব্র্যান্ড লোটোর এলিফ্যান্ট রোডে তিন হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের একটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে এবারের ঈদে লোটো ও লি কুপারের ১৩০ ধরনের নতুন নকশার জুতা তোলা হয়েছে। দেশে বর্তমানে তাদের ১৪৪টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

লোটো ব্র্যান্ডের এলিফ্যান্ট রোডের বিক্রয়কেন্দ্রের শাখা ব্যবস্থাপক ওয়াইজ কুরুনী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে আমাদের পুরুষদের জুতা বেশি হওয়ায় একটু শেষ দিকে এসে বিক্রি বাড়ে।’

কী বলছে জুতার ব্র্যান্ডগুলো

দেশে জুতার বাজারের আকার নিয়ে সঠিক তথ্য নেই। তবে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। আর বাজারের ৩০ শতাংশের বেশি ব্র্যান্ডের জুতার দখলে। বাকিটা নন-ব্র্যান্ড, আঞ্চলিক ব্র্যান্ড ও আমদানি করা জুতার দখলে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রি প্রতিবছর ১০-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর সারা বছরের বিক্রির প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ এই ঈদুল ফিতরের সময় হয়ে থাকে। এ কারণে ঈদে নানা ছাড়ের পাশাপাশি নতুন নকশার জুতা আনে সব ব্র্যান্ড। চলতি বছরে ঈদ সামনে রেখে দুই হাজারের বেশি নকশার জুতা নিয়ে এসেছে অ্যাপেক্স। এ ছাড়া ব্র্যান্ডটিতে ১০ হাজারের বেশি নকশার জুতা সব সময় বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে তাদের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে ২৫০টির বেশি।

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে অ্যাপেক্সের। ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন এক কোটি টাকার বেশি জুতা বিক্রি করে অ্যাপেক্সের এই বিক্রয়কেন্দ্র। এই সময়ে প্রতিদিন আট-নয় হাজার জোড়া জুতা বিক্রি হয়।

অ্যাপেক্সের এই বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মেহেদি হাসান বলেন, গত বছরের হিসাবে এই বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি বেড়েছে ২১ শতাংশ।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের আরেক জুতার ব্র্যান্ড বে। ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ লাখ টাকার জুতা বিক্রি হয় তাদের। এই বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ঈমাম হাসান বলেন, গত বছর বিক্রি কখনো কম কখনো বেশি হতো। এ বছর বিক্রি একই রকম। তবে এবার নারীদের জুতার বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।