লাবণ্য বুটিকের বিক্রয় প্রতিনিধি সানজিদা পারভীন বলেন, ‘গত তিন দিনে মেলায় তেমন লোকই আসেনি, বিক্রি করব কাদের কাছে?’ সানজিদা জানান, মেলা শুরুর প্রথম তিন দিনে মোটামুটি বিক্রি হয়েছিল। এরপর ক্রেতার সংখ্যা কমে যায়। তবে গতকাল থেকে আবার ভিড় বাড়ছে। আগামী দুই দিন শুক্র ও শনিবার ভালো বিক্রি হবে বলে আশা সানজিদার।

পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডসের স্বত্বাধিকারী রেজবিন হাফিজ বেশ কয়েক বছর ধরেই এসএমই মেলায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো মেলায় যত বিক্রি হয়, তার প্রায় ৪০ শতাংশ হয় শেষ দুই দিনে। আশা করছি, এবারও মেলার শেষ দিকে ভালো বিক্রি হবে।’

এবারের মেলায় সারা দেশ থেকে ৩২৫টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ৩৫১টি স্টলে তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ মেলায় সবচেয়ে বেশি এসেছেন ফ্যাশন ও চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া হস্ত ও কারুশিল্প, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য নিয়ে এসেছেন উদ্যোক্তারা।

মেলায় পোশাক পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও ভালো বিক্রি হচ্ছে। এই যেমন আর আর ইমপেরিয়াল ইলেকট্রিক্যালস নামের একটি কোম্পানি প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কেব্‌ল বিক্রির ক্রয়াদেশ পেয়েছে। আবার আট লাখ টাকার শতরঞ্জি ও পাটজাত পণ্য বিক্রি করেছে লিডিং স্টাইল নামের একটি কোম্পানি। এ ছাড়া পেয়েছে ৪৫ লাখ টাকার ক্রয়াদেশ।

রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এসএমই মেলায় পরিবার নিয়ে এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম। মেলা থেকে তিনি একটি শতরঞ্জি, চামড়ার ব্যাগ, ছোটদের খেলনা, ঝুড়ি ও পোশাক কিনেছেন। প্রথম আলোকে রাফিউল বলেন, ‘এসএমই মেলায় উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি পণ্য সরাসরি তাদের কাছ থেকে কিনতে পারি, তাই প্রতিবছর অন্তত একবার হলেও মেলায় আসি।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসারে ২০১২ সাল থেকে জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা আয়োজন করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯টি এসএমই পণ্য মেলায় প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে মেলার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও এসএমই পণ্য মেলা আয়োজন করা হয়।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ

মেলার স্টলভাড়া ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ আছে কোনো কোনো উদ্যোক্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোর থেকে আসা এক উদ্যোক্তা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা উদ্যোক্তাদের জন্য স্টলভাড়া একটু কমানো দরকার ছিল। কারণ, তাঁদের যাতায়াত ভাড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচের পর এই স্টলভাড়া অনেক বেশি হয়ে যায়। আরেক উদ্যোক্তা জানান, প্রতিটি স্টলের জন্য আলাদা ফ্যানের ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে দিনের বেলায় গরমে তাঁদের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে।