জানতে চাইলে বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, বন্দরের মূল জেটি ও সাইলো জেটিতে বর্তমানে দুটি চালের জাহাজ থেকে চাল খালাস হচ্ছে। এরই মধ্যে বহির্নোঙরে আরও চালের জাহাজ এসেছে। এসব জাহাজ থেকে দ্রুত চাল খালাসের ব্যবস্থা নিতে খাদ্য বিভাগ অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের অনুরোধে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে পতেঙ্গা টার্মিনালের একটি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

খাদ্য বিভাগ জানায়, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চাল ও গম আমদানির চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় গত মাস থেকে খাদ্যশস্য আমদানি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে সরকারি চুক্তির আওতায় দুই লাখ টন আতপ চাল আসতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ৭ জাহাজে ৬৪ হাজার ৯৫০ টন চাল আমদানি হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা চালের বেশির ভাগই মূলত ছোট জাহাজে আসতে শুরু করেছে। আজ পতেঙ্গা টার্মিনালে ভেড়ানো ‘এমভি এমসিএল-১৯’ জাহাজে ২ হাজার ৬৫০ টন চাল রয়েছে। সাধারণত, বন্দর জেটিতে আগে যেসব চালের জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে, সেগুলো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টনের ছিল। অর্থাৎ মাঝারি আকারের একটি জাহাজে যে পরিমাণ চাল আমদানি করা যায়, তা ছোট জাহাজে আমদানি করতে হলে ১০টি জাহাজ দরকার। ছোট হলেও সব জাহাজের জন্য জেটি বরাদ্দ রাখতে হয়। সে জন্য চালের জাহাজের জেটি বরাদ্দ দিতে বেগ পেতে হচ্ছে বন্দরকে।

মিয়ানমার থেকে আসা চালের জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি সেভেন সিজ শিপিং লাইনের কর্ণধার আলী আকবর প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে ছোট আকারের জাহাজ ছাড়াও মাঝারি আকারের জাহাজে চাল আসছে। পতেঙ্গা টার্মিনালে ভেড়ানো জাহাজ থেকে কাল বুধবার চাল খালাস শুরু হবে। চাল খালাসের জন্য সেখানে ক্রেন নেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, পতেঙ্গা টার্মিনালে জেটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে এখনো কনটেইনার রাখার চত্বরের একাংশ ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি তৈরির কাজ বাকি। জেটির কাজ শেষ হওয়ায় টার্মিনালে জাহাজ ভিড়িয়ে পণ্য খালাসে সমস্যা হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে কাজ করছে।