সাক্ষাৎকার: আবু বকর সিদ্দিক
নিও অ্যাপের মাধ্যমে এমটিবির কার্ড থাকে পুরোপুরি গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণে
ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে জীবনকে গতিশীল, নিরাপদ ও সহজ করার অন্যতম মাধ্যম ব্যাংক কার্ড। গ্রাহকদের সহজ ও ঝামেলাহীন লেনদেনে অভ্যস্ত করতে প্রথম আলো ডটকম তৃতীয়বারের মতো করেছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’। এতে অংশ নিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা এবং নিজেদের আধুনিক কার্ড সেবার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির হেড অব কার্ডস মো. আবু বকর সিদ্দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ নিজামী।
প্রথম আলো: প্রথম আলো ডটকম এ বছর তৃতীয়বারের মতো করেছে ‘ব্যাংক কার্ড আয়োজন’। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: আমরা মনে করি, এটি শুধু একটি কার্ডভিত্তিক আয়োজনই নয়, এটি ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাহক–সচেতনতার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষ যেন বুঝতে পারেন ব্যাংক কার্ড শুধু পেমেন্টের মাধ্যম নয়, বরং সাশ্রয়, নিরাপত্তা এবং সুবিধার একটি স্মার্ট ফিন্যান্সিয়াল টুল। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এমটিবির কার্ডের অফার, সুবিধা এবং ব্যবহারিক উপকারিতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
প্রথম আলো: বর্তমানে আপনাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডগুলোয় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কী কী সুবিধা বা রিওয়ার্ড অফার রয়েছে?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে আমাদের সব ডেবিট কার্ড ইন্টারন্যাশনাল হয়েছে। পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট থাকলে গ্রাহক বিদেশেও ব্যবহার করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক সাইটগুলোয় ই-কমার্স লেনদেনও করতে পারেন। আমাদের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে সারা দেশে তিন শতাধিক মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় এবং দেশের স্বনামধন্য রেস্তোরাঁগুলোয় ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ বুফে অফার উপভোগ করা যায়। আমাদের ‘ইউনিয়নপে’ ডেবিট কার্ডে গ্রোসারিতে ৮ শতাংশ এবং ডাইনিংয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, যা ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে একটি ইউনিক অফার। আর ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা পেমেন্টে সাশ্রয়ের পাশাপাশি অনেক ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস পাচ্ছে।
প্রথম আলো: অনলাইন কেনাকাটা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্ডগুলো গ্রাহকের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারছে?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: আমাদের কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা পিসিআই–ডিএসএস কমপ্লেইন্ট ব্যাংক এবং আমাদের সব কার্ড ইএমভি চিপ এবং পিন প্রযুক্তিনির্ভর। অনলাইন লেনদেনে থ্রিডি সিকিউর ও টু–ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহৃত হয়। তাই গ্রাহকের অনুমোদন ছাড়া কোনো লেনদেন সম্পন্ন হয় না। এ কারণেই অনলাইন ও আন্তর্জাতিক ব্যবহারে এমটিবি কার্ডের ওপর গ্রাহকের আস্থা অনেক বেড়েছে।
প্রথম আলো: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আপনাদের ব্যাংকের কার্ডে কোন ধরনের শক্তিশালী প্রযুক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: কার্ডের নিরাপত্তায় আমরা একাধিক স্তরের সুরক্ষা ব্যবহার করি। যেখানে রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং ইন্সট্যান্ট এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেনে গ্রাহক সতর্ক হতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, গ্রাহক নিজেই ‘এমটিবি নিও অ্যাপ’ থেকে কার্ড ব্লক/আনব্লক, আন্তর্জাতিক ব্যবহার অন/অফ এবং ই–কমার্স অ্যানাবল/ডিজঅ্যাবল করতে পারেন। এককথায়, কার্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে গ্রাহকেরই হাতে।
প্রথম আলো: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ‘এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ’ দেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনাদের কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিমানবন্দরগুলোয় আর কী কী এক্সক্লুসিভ সেবা উপভোগ করতে পারছেন?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: এমটিবির কার্ডধারীরা ‘এমটিবি নিও অ্যাপ’ থেকে খুব সহজেই পিক অ্যান্ড ড্রপ বুক করতে পারেন এবং বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সার্ভিসের মাধ্যমে ঝামেলাহীনভাবে বোর্ডিং করতে পারেন। এ ছাড়া এয়ার লাউঞ্জ থেকেই কার্ড স্ট্যাটাস চেক, পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যানাবল/ডিজঅ্যাবলের মতো সুবিধাও পাওয়া যায়, যা ভ্রমণকে করে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়।
প্রথম আলো: আপনারা বিভিন্ন পেশাজীবী ও বয়সীদের জন্য বিশেষায়িত কার্ড অফার করছেন। সাধারণ কার্ডের তুলনায় এই কার্ডগুলো গ্রাহকদের বাড়তি কী সুবিধা দিচ্ছে?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: আমরা বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য বিশেষ কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড দিচ্ছি। যেমন ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং জিপি স্টার গ্রাহকদের জন্য আমাদের আলাদা কার্ড রয়েছে। এসব কার্ডে অ্যানুয়াল ফি ওয়েভার, প্রিফারেনশিয়াল লিমিট এবং সেগম্যান্ট–স্পেসিফিক লাইফস্টাইল অফার থাকে। ফলে কার্ডটি গ্রাহকের পেশা ও লাইফস্টাইলের সঙ্গে মানানসই হয়ে যায়।
প্রথম আলো: এমটিবি ‘স্মার্ট ব্যাংকিং’ অ্যাপের মাধ্যমে কার্ডের পিন পরিবর্তন করা বা তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড ব্লক/আনব্লক করার মতো সুবিধা গ্রাহকদের জীবনকে কতটা সহজ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলেছে?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: এমটিবি নিও অ্যাপের মাধ্যমে কার্ড থাকে পুরোপুরি গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণে। তাই পিন চেঞ্জ, কার্ড অ্যাকটিভেশন, ব্লক/আনব্লক, লিমিট সেটিং, বিল হিস্ট্রি এমনকি এম–রিওয়ার্ডজ পয়েন্ট দেখা ইত্যাদি কাজ মোবাইল থেকেই করা যাচ্ছে। আগে ছোট একটি কাজের জন্যও ব্যাংকে যেতে হতো, যা এখন কয়েক সেকেন্ডেই করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা হয়েছে আরও দ্রুত, সহজ ও স্মার্ট।
প্রথম আলো: গ্রাহকদের সচেতন করতে এবং স্মার্ট লেনদেনে উৎসাহ দিতে প্রথম আলো ডটকমের ‘অনলাইন ব্যাংক কার্ড আয়োজন’ কেমন ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?
মো. আবু বকর সিদ্দিক: বাংলাদেশ এখন ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন মানুষকে নিরাপদ কার্ড ব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্ট ও অফারের সুবিধা সম্পর্কে জানায়। আমরা মনে করি, এটি শুধু কার্ডভিত্তিক আয়োজন নয়, বরং একটি ‘ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ উদ্যোগ।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
মো. আবু বকর সিদ্দিক: আপনাকেও ধন্যবাদ।