ওই বৈঠকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে সৌদি কোম্পানির বিনিয়োগ, ওষুধ রপ্তানি, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) সৌদি আরবের কোম্পানির বিনিয়োগ, প্রবাসী শ্রমিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

 তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে চলমান বিদ্যুৎ–সংকটের প্রেক্ষাপটে এ খাতের প্রাথমিক পণ্য অপরিশোধিত তেল সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে জেইসি বৈঠকে। বৈঠকে সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে শর্ত সহজ করার বিষয়টিও তোলা হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভায় জ্বালানি তেল, এলএনজি আমদানির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সৌদি আরব থেকে এলএনজি কেনার বিষয়ে সৌদি আরামকো ও পেট্রোবাংলার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে। এ ছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে সৌদি আরবের বিনিয়োগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। 

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, এখন দেশে বিদ্যুৎ খাতের সংকট চলমান রয়েছে। এ সময়ে সৌদি আরব থেকে কম দামে জ্বালানি তেল পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পরে। কারণ, সৌদি আরব বলছে, তারা তেলের উৎপাদন কমাবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, কাতারের পর এখন সৌদি আরব থেকে এলএনজি কেনার উদ্যোগটি ভালো। কারণ, বাংলাদেশ শিগগিরই এলএনজি–নির্ভরতা কমাতে পারবে না। স্পট প্রাইসের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে কম দামে যদি এলএনজি পাওয়া যায়, তাহলে তা বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে কার্যকর হবে। 

সৌদি কোম্পানির জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরীতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরবের প্রথম শ্রেণির প্রতিষ্ঠান আল বাওয়ানি কোম্পানি। কোম্পানিটি মূলত অবকাঠামো খাতের ব্যবসা করে থাকে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা অঞ্চল তৈরি করবে আল বাওয়ানি। দুই দেশের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। 

বৈঠকে পিপিপির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পোর্ট ও পায়রা কনটেইনার টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনারও কথা রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে ওষুধ রপ্তানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। সৌদি আরব যাতে আরও বেশি বাংলাদেশি ওষুধ আমদানি করে, সেই প্রস্তাবও করা হবে বৈঠকে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে সৌদি আরবে একটি ওষুধ কারখানা নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে সৌদি আরবের কাছে কারিগরি সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ।

প্রবাসী শ্রমিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করা প্রসঙ্গ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের অনেকেরই আকামার (কাজের অনুমোদন) মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে অনেক বাংলাদেশি সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে গেছেন। তাঁদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ করবেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তাঁদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হবে। 

  রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২৯ কোটি ডলারের পণ্য সৌদি আরবে রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের পোশাকের একটি বড় বাজার রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, শাকসবজি, হালকা প্রকৌশল পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হয় দেশটিতে। অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। তবে সৌদি আরব থেকে কত টাকার জ্বালানি তেল আমদানি হয়, তা জানা যায়নি।