সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগাতে টোল আদায় হবে
সড়ক-মহাসড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগাতে টোল বা পথশুল্ক আদায় করা হবে। এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের এ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে এত এত সড়ক। আমাদের ভাটির দেশ। সড়ক ভেঙে যায়। আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেও সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। এ জন্য রাস্তা মেরামত করতে হয়। এসব সড়ক মেরামত করার জন্য টোল আদায় করে জোরালো তহবিল গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন।’
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে। পর্যালোচনা করবে। সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের অন্যতম অর্থের উৎস হবে টোল বা পথশুল্ক। অনেক সড়ক হয়েছে, এখন রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব–সংঘাত
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা ধ্বংসাত্মক কাজে নেই। আমরা আবার ক্ষমতায় আসব, আমরা উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। আমি নিজেই র্যাডিসন হোটেলের কর্মীদের কাছ থেকে জেনেছি, আগামী বেশ কয়েকটি বুকিং বাতিল হয়েছে।’
এম এ মান্নান আরও বলেন, সম্পদ ধ্বংস, প্রাণহানিসহ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর যেসব কার্যক্রম এখন চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব বিনাশী কার্যক্রম পরিত্যাজ্য। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত প্রকল্প শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ৫২ হাজার ৬১২ কোটি টাকার ৩৭টি প্রকল্প পাস হয়েছে। আরও ছয়টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। সরকারের শেষ সময়ে কেন এত প্রকল্প পাস করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত, তাহলে বেশি প্রকল্প পাস করতাম। বেশি প্রকল্প পাস করতে পারলে উৎফুল্ল হতাম।’
একনেকের বৈঠকে ৩৭টি প্রকল্প পাস হলেও সব মিলিয়ে ৪৬টি নতুন প্রকল্প ওঠে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার বলেন, ‘প্রকল্প পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই–বাছাই করে পাস করা হয়। টিক মার্ক দিয়ে প্রকল্প পাস করি না। নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো প্রকল্প পাস করা হয় না।’