কার্ড জালিয়াতি: আপনার লেনদেন নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আমাদের জীবনকে যতটা গতিময় করেছে, ঠিক ততটাই যেন পিছু নিয়েছে হ্যাকিং বা জালিয়াতির আতঙ্ক। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাও আধুনিক হচ্ছে। লেনদেনে চেক বা কাগুজে নোটের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ব্যাংক কার্ড আর ডিজিটাল ওয়ালেট। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে ঠিকই, একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হ্যাকিংসহ অভিনব সব জালিয়াতির ঝুঁকি।

ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ

বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলোতে সাইবার আক্রমণ এবং গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ফলে অনলাইন ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মনে একধরনের শঙ্কা ও দ্বিধা কাজ করাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে ডিজিটাল যুগে এসে কি লেনদেনে পিছিয়ে থাকতে হবে? মোটেও না। বরং সুরক্ষা কবচগুলো চিনে নেওয়াটাই জরুরি।

‘জিরো লায়াবিলিটি’ নীতি: সুরক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ

অনলাইন বা ব্যাংক কার্ডে লেনদেনে অনিয়ম রোধে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি রক্ষাকবচ হলো ‘জিরো লায়াবিলিটি’ বা শূন্য দায়বদ্ধতা নীতি। ভিসা, মাস্টারকার্ড বা আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কোনো গ্রাহকের কার্ড থেকে তাঁর অজান্তে বা জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা চুরি হয় এবং সেখানে গ্রাহকের নিজস্ব কোনো গাফিলতি (যেমন পিন বা ওটিপি শেয়ার করা) না থাকে, তবে সেই হারানো অর্থের দায়ভার গ্রাহকের নয়।

বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক এখন এই নীতি অনুসরণ করছে। নিয়ম অনুযায়ী, জালিয়াতির ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে (২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে) সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অবহিত করলে এবং যথাযথ তথ্যপ্রমাণ দিলে ব্যাংক ওই লেনদেনটি স্থগিত করে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সুরক্ষাব্যবস্থা মূলত ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

ধরুন, গভীর রাতে আপনার মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ এল। তাতে দেখলেন—আপনার কার্ড দিয়ে বড় অঙ্কের কেনাকাটা হয়েছে। অথচ কার্ডটি আপনার ওয়ালেটে বা ড্রয়ারেই আছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আপনার ব্যাংকের এই সুরক্ষানীতি থাকে এবং আপনি আপনার পিন বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করে থাকেন, তবে এই হারানো অর্থের দায় আপনার ওপর বর্তাবে না।
আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই মূলত আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের আসল শক্তি। এর ফলে ডিজিটাল লেনদেন সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই যুগে সচেতনতা আর এমন বলিষ্ঠ সুরক্ষানীতিই নিশ্চিত করছে আপনার লেনদেনের নিরাপত্তা।