দর-কষাকষি শেষ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ সই শিগগিরই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই সিইপিএ শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক জোটের শক্তিশালী ভিত্তিও তৈরি করবে।
আজ সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দক্ষিণ কোরিয়ার সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান।
নৈশভোজ শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন যে অল্প সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জন্য দেশটির এ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক এখন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন ও যৌথ সমৃদ্ধির অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় সিইপিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিইপিএ আলোচনায় যুক্ত দুই দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে শিগগিরই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পভিত্তি এবং বড় বাজার দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেছে।
চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইয়ো হান-কু বলেন, সেই অভিজ্ঞতার কারণেই উভয় দেশের সিইপিএ আলোচনা দ্রুত শেষ করায় তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইয়ো হান-কু বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যবসায়ীদের এই চুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।