এফবিসিসিআইয়ে ব্যবসায়ী প্রশাসক নিয়োগের আশ্বাস

এফবিসিসিআইছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যসচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বর্তমানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্বেও আছেন।

এফবিসিআইয়ের সদস্যদের একাংশের জোট ‘এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদ’–এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসক আবদুর রহিম খান। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে এ বৈঠক হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের উপদেষ্টা গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আমরা আজ প্রশাসক আবদুর রহিমের সঙ্গে বৈঠক করি। এতে তিনি এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালায় যেসব সংস্কার আনা হবে, তা সংস্কার পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং নতুন প্রশাসক নিয়োগ করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার বিষয়ে আশ্বাস দেন।’

প্রশাসকের পদত্যাগ ও দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে আজ বেলা ২টার দিকে ফেডারেশন ভবনের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলন করার কর্মসূচি ছিল এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের। তবে সকালে প্রশাসকের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন না করার সিদ্ধান্ত নেন সংস্কার পরিষদের নেতারা। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো জানান তাঁরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেন, উপদেষ্টা গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে তৎপর হন সদস্যদের একাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি পদ থেকে মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর ফেডারেশনের পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

হাফিজুর রহমান এক বছর দায়িত্ব পালন করলেও নির্বাচন দিয়ে যেতে পারেননি। দেড় মাস প্রশাসকের পদ শূন্য থাকার পর গত নভেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাঁকে ১২০ দিন বা ৪ মাসের মধ্যে নির্বাচন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলা হলেও ইতিমধ্যে ৬ মাস পার হয়েছে।